images

স্পোর্টস / ফুটবল

যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলতে হবে, ইরানকে জানিয়ে দিল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সেই আবেদন শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফিফা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ম্যাচগুলো মূল ভেন্যু থেকে সরানো সম্ভব নয়। কারণ এতে বিশাল লজিস্টিক সমস্যা তৈরি হবে। টিকেট বিক্রি, দলগুলোর ভ্রমণসূচি ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিত।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই ইরান নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ না খেলার আবেদন করে। যদিও সম্প্রতি একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবু ইরানি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

২০২৬ বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে। ইরানের গ্রুপে রয়েছে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিসর। তাদের ম্যাচগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে নির্ধারিত ছিল।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইরান খেলুক এবং ইরান খেলবেই। কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই, শুধু একটাই পরিকল্পনা।’ ফিফা আগে থেকেই ম্যাচ সরানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র বয়কটের কথা ভাবছেন, তবে পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেব, যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করব না।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা এখনও জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অংশগ্রহণ উপযুক্ত নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানি দলকে ‘তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার’ কথা ভেবে না আসাই ভালো হবে।