স্পোর্টস ডেস্ক
১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) নিয়ে বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। আগামী চক্রে এক ম্যাচের টেস্ট (ওয়ান-অফ টেস্ট) অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি দলসংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আইসিসির একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ- যার নেতৃত্বে আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টউস, এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে কাজ করছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে বোর্ড সভায় এই সুপারিশ উপস্থাপন করা হতে পারে।
সূচি জটিলতা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে আইসিসি। এর সমাধান খুঁজতেই এই উদ্যোগ। এর আগে দুই-স্তরের (টু-ডিভিশন) ডব্লিউটিসি মডেল প্রস্তাব করা হলেও তা বেশ কিছু পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিতে বাতিল হয়ে যায়।
নতুন প্রস্তাবে ডব্লিউটিসিতে যুক্ত হতে পারে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। ২০১৯ সালে ডব্লিউটিসি চালুর সময় পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই তিন দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তারা নিয়মিত টেস্ট খেললেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে সুযোগ সীমিতই থেকে গেছে।
বর্তমানে ডব্লিউটিসির কোনো সিরিজে অন্তত দুটি টেস্ট থাকতে হয়। তবে অনেক বড় বোর্ডের কাছে ছোট দলের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজ আয়োজন আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই এক ম্যাচের টেস্টকে পয়েন্ট কাঠামোর মধ্যে আনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
এতে করে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলো সহজেই সূচিতে জায়গা পাবে। যেমনঃ কোনো দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি টেস্ট খেলতে পারে। আবার ইংল্যান্ডের মতো দেশ তাদের ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন সূচির মাঝেও একটি ওয়ান-অফ টেস্ট আয়োজন করতে পারবে।
তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে দুটি বড় বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। ওয়ান-অফ টেস্ট ডব্লিউটিসির অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য কি না, এবং নতুন তিন দলের জন্য দুই বছরজুড়ে বাড়তি টেস্ট খেলা আর্থিকভাবে টেকসই হবে কি না।
এরই মধ্যে আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভা আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে আগের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছিল। নতুন করে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও এখনো সময় ও ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।