স্পোর্টস ডেস্ক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাইরে এশিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য উৎসবের আরেক নাম এশিয়া কাপ। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আয়োজন করে এই মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট। এবার তেমনই এক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)। ‘আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপ’ নামের এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য তাদের। তবে ২০২৭ সালের আগে এই আসর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
গত বছর নতুনভাবে গঠিত এসিএ, যার চেয়ারম্যান হয়েছেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান তাভেঙ্গা মুখুহলানি, এখন বিভিন্ন প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। মূলত কোন সময় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে এবং দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে, এই দুটি বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা।
টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনেকটাই নির্ভর করছে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর, যারা আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ও ব্যস্ত দল। তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না।
জানা গেছে, ধারণাগতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা এই টুর্নামেন্টে আগ্রহী হলেও তাদের ব্যস্ত সূচির কারণে প্রথম সারির দল পাঠানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের টানা আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা রয়েছে। নতুন ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম চূড়ান্ত হলে তবেই আগামী পাঁচ বছরের সূচি পরিষ্কার হবে।
এদিকে চলতি বছর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে নামিবিয়াও থাকতে পারে। ভিক্টোরিয়া ফলসে নতুন আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষে হতে যাওয়া এই সিরিজটি ভবিষ্যৎ আফ্রিকা কাপের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করতে পারে। আগস্টে সম্ভাব্য এই সিরিজটি ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়ার কথা, যাতে দলগুলো আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে পারে।
এই সিরিজ থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ এসিএর তহবিলে যাবে এবং আফ্রিকা কাপ নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতেও সহায়তা করবে। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ক্রিকেটীয় সহযোগিতা বেড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা গত বছর জিম্বাবুয়েতে টেস্ট খেলেছে দীর্ঘ বিরতির পর, পাশাপাশি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজেও অংশ নিয়েছে। নামিবিয়াতেও তারা দল পাঠিয়েছে, যেখানে নতুন ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। এই প্রেক্ষাপটে মহাদেশজুড়ে ক্রিকেট উন্নয়নের নতুন উদ্যোগ হিসেবে আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে এসিএ। তাদের লক্ষ্য, এশিয়া কাপের আদলে একটি টুর্নামেন্ট গড়ে তুলে আফ্রিকার ক্রিকেটকে আরও জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।