স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ পিএম
বিশ্বকাপের উত্তেজনা কেটে গেলেও তার রেশ এখনো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই পরিস্থিতি বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোকে সামনে রেখে দুই বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে বিসিবি বিসিসিআইর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
জানুয়ারি মাসে দুই দেশের অবস্থান প্রায় সংঘাতের দিকে চলে গিয়েছিল। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া এবং পরবর্তীতে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত এই দুটি বিষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সে সময় সরকারি পর্যায় থেকেও বিশ্বকাপে না যাওয়ার অবস্থান ছিল বলে জানা যায়।
উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে। আইসিসি ও ভারতকে নিয়ে তীব্র সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয় এবং সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আক্রমণ করা হয়। ফলে দুই বোর্ডের মধ্যে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঠান্ডা হয়ে পড়ে।
তবে এখন সেই নেতিবাচক অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বিসিবি। সূচি অনুসারে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে, যা আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে এই সিরিজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নির্ধারিত রয়েছে এবং সেটি এখনো চূড়ান্ত। গত বছর বাংলাদেশ নারী দলের ভারত সফরের কথা ছিল, যা বাতিল হয়ে যায়। আমরা সেই সিরিজটি পুনর্নির্ধারণ করতে চাই। বিসিসিআইকে পাঠানো চিঠিতে মূলত এই বিষয়টিই উঠে এসেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাশাপাশি আমরা দুই বোর্ডের মধ্যে আরও বেশি সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায় কি না, যৌথভাবে অন্য কোনো ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব কি না। এসব বিষয়ও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ আমরা অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত করে থাকি। আমরা আশা করছি দ্রুতই ইতিবাচক সাড়া পাব।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি স্বীকার করে ফাহিম বলেন, ‘বিশ্বকাপের সময় ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়েছে, সেটা আমরা জানি। তবে আমরা আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে তারা আমাদের নারী দলকে হোস্ট করবে। সামগ্রিকভাবে এই সম্পর্ককে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে চাই এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দুই বোর্ডের মধ্যে ভালো একটা অবস্থান তৈরি করতে চাই।’
এসটি