images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বিসিবিতে পদত্যাগের মিছিল, কী বার্তা দিচ্ছে?

স্পোর্টস ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বর্তমানে চলছে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা। সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে। একের পর এক পরিচালক পদ ছেড়ে দিচ্ছেন, যা দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় গভীর অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পদত্যাগের মিছিল শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগে। প্রথমে পদত্যাগ করেন পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক (জানুয়ারিতে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে)। এরপর একে একে পদ ছাড়েন আমজাদ হোসেন (মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে)। ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল (লজিস্টিকস ও প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যান)। ফায়াজুর রহমান মিতু (ডিসিপ্লিন কমিটির চেয়ারম্যান)। শাহনিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরী। 

সর্বশেষ শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) রাতে এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পদত্যাগপত্র জমা দেন চার জন। শুরুতে ফাইয়াজুর রহমানের পর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরী। পরে মঞ্জুর আলমও একই পথে হেঁটেছেন। এভাবে বর্তমান বোর্ডের অনেক পরিচালক (কয়েকটি সূত্র অনুসারে ৫ থেকে ৭ জন) ইতোমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বোর্ডের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের বিসিবি নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা বোর্ডকে আরও চাপে ফেলেছে।

শনিবার বিসিবিতে প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষ হওয়ার পরপরই পদত্যাগপত্র জমা পড়তে থাকে। বিসিবি এখনো অনেক পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি, তবে পরিস্থিতি যথেষ্ট টালমাটাল। বোর্ডের সিনিয়র সদস্যরা বলছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তবে বাস্তবে এটি গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন।

কী বার্তা দিচ্ছে এই মিছিল?

এই ধারাবাহিক পদত্যাগ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে বড় প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে? 

একটি বোর্ডে এত দ্রুত এতগুলো পদত্যাগ সাধারণত সংকটের লক্ষণ। এটি নেতৃত্বের দুর্বলতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং দলীয় বিভাজনকে তুলে ধরছে। এছাড়া জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, লিগ আয়োজন সবকিছুতেই এই অস্থিরতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন তদন্ত এবং বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মিলিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে বোর্ডের দুই পরিচালক এই পরিস্থিতিতে আশাবাদী কথা বলেছেন। পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, পদত্যাগী পরিচালকদের সিদ্ধান্তে বোর্ডের কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “আমাদের যে যার দায়িত্ব তা পালন করছি। ভবিষ্যতে যদি কিছু হয় এ নিয়ে আমরা চিন্তিত না। সবাই জানেন আমরা প্যাশন হিসেবে এসে সার্ভিস দিচ্ছি।”

আরেক পরিচালক রুবাবা দৌলা বলেন, যাই ঘটুক না কেন, তারা নিজেদের কাজ ঠিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবারের সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ আমরা ৯ ঘণ্টা বোর্ড মিটিং করলাম। বেশ কিছু এজেন্ডা নিয়ে সামনে তাকিয়েছি আর কী কী করা যায়। আজ যেসব শুনলেন, অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির চেয়ার একেকজনকে নির্ধারণ করে তাদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমরা সবাই দায়িত্বশীল। কাজের দিকেই লক্ষ্য রাখছি। যেটা হবার সেটা হবে, আমরা যেন ঠিকমতো কাজ করি।”

এসটি