স্পোর্টস ডেস্ক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
সবকিছু ঠিক থাকলে চলমান আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর জার্সিতে মাঠে নামার কথা ছিল নুয়ান থুশারার। তবে শ্রীলঙ্কান এই পেসার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পারছেন না শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের অনাপত্তির কারণে। থুশারাকে আইপিএলে খেলার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন লঙ্কান এই ক্রিকেটার।
এই মামলাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এর অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে। থুশারার দাবি, আগের দুই আইপিএল মৌসুমে একই ধরনের ফিটনেস নিয়েই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও বোর্ড আগে জানিয়েছিল, জাতীয় দলে তাকে আর বিবেচনা করা হবে না।
মামলার শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ এপ্রিল। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, কারণ প্রতিটি ম্যাচ পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে তার চুক্তি হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। এসএলসি জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় থুশারাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। পাঁচটি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্টের মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭। বোর্ডের দাবি, বিদেশি লিগে খেলতে গেলে এই ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করা বাধ্যতামূলক।

তবে থুশারা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। তার মতে, ক্যারিয়ারের পুরো সময় জুড়েই তার ফিটনেস একই রকম রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আইপিএলে কোনো ফিটনেস ইস্যু না তুলেই তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার এসএলসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি তা নবায়ন করবেন না, এ কথা আগেই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন।
এর পাশাপাশি বোর্ড কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তাকে আর রাখা হবে না। ফলে ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি না দেওয়াকে তিনি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। থুশারা আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তাকে এনওসি পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থায়ী নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে এসএলসি দ্রুত তাকে ছাড়পত্র দেয় এবং তিনি চলমান আইপিএলে আরসিবির হয়ে যোগ দিতে পারেন।
৩১ বছর বয়সী এই পেসারের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনওসি না পেলে আরসিবি তাকে দলে রাখতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে শুধু ২০২৬ আইপিএলের পারিশ্রমিকই নয়, ভবিষ্যতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর সুযোগও হারাতে পারেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে আসার পর এখন আইপিএলই তার প্রধান আয়ের উৎস এবং ক্যারিয়ারের মূল মঞ্চ।
অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরসিবিও তাকে দলে পেতে মুখিয়ে আছে। জশ হ্যাজলউড চোটের কারণে শুরুর ম্যাচগুলো খেলতে পারেননি, আর যশ দয়াল পুরো মৌসুম থেকেই ছিটকে গেছেন। বিদেশি পেস বোলিং অপশনে ঘাটতি থাকায় থুশারা এলে দলটির বড় একটি দুর্বলতা পূরণ হতো। তাই ৯ এপ্রিলের শুনানিই খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি- দুই পক্ষের জন্যই নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। আইপিএলে এখন পর্যন্ত দুটি দলের হয়ে খেলেছেন থুশারা। ২০২৪ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে সাত ম্যাচে নিয়েছেন আট উইকেট। আর আরসিবির হয়ে গত আসরে একটি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন একটি উইকেট।