images

স্পোর্টস / ফুটবল

আর্জেন্টিনা কেন দুর্বলদের বিপক্ষে খেলে, মাস্টারপ্ল্যান নাকি ব্যবসা

০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

মৌরিতানিয়ার (ফিফা র‍্যাঙ্ক ১১৫) বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা, এরপর জাম্বিয়াকে (র‍্যাঙ্ক ৯১) ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে অ্যাঙ্গোলা, পুয়ের্তো রিকো (র‍্যাঙ্ক ১৫৬), ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, কুরাসাও, ইন্দোনেশিয়া, পানামা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ প্রীতি ম্যাচ ও কিছু কম্পিটিটিভ ম্যাচ এমন ‘ছোট’ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। 

ফিফা টপ টেনের একটি দলের (ব্রাজিল) সঙ্গে মাত্র দু’বার (কোয়ালিফায়ারে) খেলেছে তারা। টপ২০-এর মধ্যে শুধু কলম্বিয়া-উরুগুয়ে। তাহলে কেন বারবার এই ‘সহজ’ রুট? ফরাসি দৈনিক লেকিপ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে কেন আর্জেন্টিনা বারবার তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলছে?

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি বলেছেন, ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা বেশ জটিল। উয়েফা নেশনস লিগের কড়া সূচির কারণে তাদের ক্যালেন্ডার প্রায় সারা বছরই ভর্তি থাকে ফ্রেন্ডলি স্লট খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে এই যুক্তিটা শুধু আংশিক সত্য।

কারণ একই সময়কালে আর্জেন্টিনা ব্রাজিল, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে। কনমেবল কোয়ালিফায়ারে ব্রাজিলের সঙ্গে দু’বার মুখোমুখি হয়েছে তারা, আর স্পেনের সঙ্গে ফাইনালিসিমার মতো বড় ম্যাচও আয়োজিত হয়েছে অতীতে। জাপান, মরক্কো কিংবা মেক্সিকোর মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গেও ম্যাচ করা একেবারে অসম্ভব ছিল না। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সেসব পথে না গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তুলনামূলক ‘সহজ’ প্রতিপক্ষ বেছে নিয়েছে।

কেন এই পছন্দ? কারণ সহজ প্রতিপক্ষ মানে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর প্রতিটি জয় সরাসরি ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে বাছাইপর্বের বাইরে টানা ১১টি ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। এই ধারাবাহিক সাফল্য তাদের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। শুধু জয় নয়, এই জয়গুলো দলের আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি র‍্যাঙ্কিং পয়েন্টও স্থিতিশীল রেখেছে।

একই সঙ্গে এই ম্যাচগুলো স্কোয়াডের গভীরতা যাচাইয়ের আদর্শ মঞ্চ। নতুন খেলোয়াড়দের মূল একাদশে সুযোগ দেওয়া, বিভিন্ন ট্যাকটিক্যাল কম্বিনেশন পরীক্ষা করা, বেঞ্চের শক্তি বাড়ানো সবকিছু তুলনামূলক কম চাপের পরিবেশে করা যায়। এই অপরিচিত দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে দল নতুন সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে, যুব প্রতিভাদের পরখ করতে পারে এবং বড় টুর্নামেন্টের আগে দলীয় সমন্বয়কে আরও ঝালাই করতে পারে। ফলে এটি শুধু ‘সহজ জয়ের’ রাস্তা নয়, বরং চ্যাম্পিয়ন দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রীতি ম্যাচের জন্য উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে। বিদেশি ম্যাচে অ্যাপিয়ারেন্স ফি ৬-৭ মিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে ১৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অ্যাঙ্গোলা ২০২৫ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে আর্জেন্টিনাকে আনতে খরচ করেছে প্রায় ১২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার)। ছোট দেশগুলো এই টাকা দিতে রাজি হয় কারণ মেসি-আলভারেজ-মার্টিনেজদের খেলা দেখতে টিকিট বিক্রি, ট্যুরিজম ও টেলিভিশন রাইটস থেকে বড় লাভ হয়।

বড় দল (যেমন স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড) এর সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করলে দুই পক্ষের ফি মিলিয়ে খরচ অনেক বেশি হয়, আয়ের ভাগাভাগি জটিল। ফলে এএফএ চুক্তি করে ছোট-মাঝারি দলের সঙ্গে। যারা প্রেস্টিজ পায়, আর্জেন্টিনা পায় নিট লাভ। চিকি তাপিয়ার নেতৃত্বে এএফএ এই ‘হাই-প্রাইস’ মডেলকে আরও শক্ত করেছে। ফলে আফ্রিকা-এশিয়া-উত্তর আমেরিকায় ট্যুর হয়, ফ্যানবেস বাড়ে এবং মেসির ‘গ্লোবাল ইফেক্ট’ কাজে লাগে।

এসটি