স্পোর্টস ডেস্ক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
লামিনে ইয়ামাল বলেছেন, মঙ্গলবার বার্সেলোনায় মিশরের বিপক্ষে স্পেনের ০-০ ড্র ম্যাচে শোনা বর্ণবাদী স্লোগানগুলো ছিল “অসম্মানজনক এবং অগ্রহণযোগ্য”। স্পেনের পুলিশ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচের প্রথমার্ধে শোনা “ইসলামবিদ্বেষী এবং বিদেশবিদ্বেষী” স্লোগানগুলোর তদন্ত করছে।
বিরতির সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে বিদেশবিদ্বেষী মন্তব্য ও স্লোগান থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেখানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একই বার্তা পুনরায় প্রচার করা হয়, যা গ্যালারির কিছু অংশ থেকে দুয়োধ্বনির জন্ম দেয়।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়ামাল শুরুতেই বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম।” “আমি জানি এটি প্রতিপক্ষ দলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি এখনও অসম্মানজনক এবং অগ্রহণযোগ্য,” ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন স্পেনের উইঙ্গার।
“আমি বুঝি সব সমর্থক এমন নয়, কিন্তু যারা এসব স্লোগান দেয়, মাঠে ধর্মকে বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহার করা আপনাকে অজ্ঞ এবং বর্ণবাদী করে তোলে।” “ফুটবল উপভোগ করার এবং সমর্থন জানানোর জন্য, মানুষের পরিচয় বা বিশ্বাসকে অসম্মান করার জন্য নয়।”

১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনের হয়ে তার ২৬তম ম্যাচ খেলছিলেন এবং ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনও মুসলিমবিরোধী স্লোগানের নিন্দা জানিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিচ্ছি এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাচ্ছি।” স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এই স্লোগানগুলোকে “অগ্রহণযোগ্য” বলেছেন এবং যোগ করেন, “সহিংস মানসিকতার মানুষ ফুটবলকে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের সমাজ থেকে সরিয়ে দিতে হবে, চিহ্নিত করতে হবে এবং যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।” মঙ্গলবারের এই ম্যাচটি কাতারে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লা লিগা ক্লাব এস্পানিওলের মাঠে স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার সার্বিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচ থেকে ১০টি পরিবর্তন এনেছিলেন দে লা ফুয়েন্তে, যেখানে বার্সেলোনার উইঙ্গার ইয়ামালই ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দলে নিজের জায়গা ধরে রাখেন। অন্যদিকে ইনজুরির কারণে মিশরের হয়ে খেলেননি লিভারপুল ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ।