০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে রোনালদোর জোড়া গোলে জার্মানিকে হারিয়ে পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর ব্রাজিলের সামনে আর কোনো বিশ্বকাপ জয় আসেনি। চারটি আসর পার হয়ে গেছে, এবার ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা (হেক্সা) জয়ের মিশনে নামছে সেলেসাওরা। কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির দলের বর্তমান অবস্থায় এবারও সেই স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা খুবই কম!
সম্প্রতি মার্চের শেষে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছে ব্রাজিল। ১০ জনের ফ্রান্সের বিপক্ষেও তারা খুব একটা ছাপ ফেলতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপে ও হুগো একিতিকের গোলে এগিয়ে যাওয়া ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে, ব্রেমারের এক গোলে শুধু সম্মান বাঁচায় ব্রাজিল। এই হার সাম্প্রতিক সময়ে দলের অস্বস্তিকর অবস্থাকেই তুলে ধরেছে।
২০১০ সালের পর থেকে নেইমার জুনিয়র ছিলেন ব্রাজিলের মূল তারকা। পেলেকে ছাড়িয়ে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। কিন্তু বয়স, ইনজুরি ও ফর্মের খরায় এখন তার অবস্থান অনিশ্চিত। মার্চের প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে তাকে রাখেননি অ্যানচেলত্তি। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার সান্তোসে ফিরে খেলছেন, কিন্তু বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। আনচেলত্তি অবশ্য পুরোপুরি দরজা বন্ধ করেননি, তবে দল এখন নেইমার-নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চাইছে।

নেইমারের পর যারা উঠে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, রদ্রিগো, এন্ড্রিক, ম্যাথিউস কুনহা। তারা ক্লাব ফুটবলে ঝলক দেখালেও জাতীয় দলে নিয়মিত প্রভাব ফেলতে পারছেন না। ভিনি স্বয়ং স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক ফলাফলের ভিত্তিতে ব্রাজিল ফেভারিট নয়। তিনি বলেছেন, “আমরা ফেভারিট নই, আমরা চাই ব্রাজিলকে আবার শীর্ষে তুলতে।”
অতীত ইতিহাস দেখলে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ে সবসময় একজন ক্লাসিক স্ট্রাইকার (নাম্বার নাইন) দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পেলে, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও। এবার সেই জায়গায় পরীক্ষিত কেউ নেই। এন্ড্রিক, জোয়াও পেদ্রোরা উদীয়মান, কিন্তু বিশ্বকাপের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের এখনো নেই।

আরেক বড় সমস্যা নেতৃত্বের অভাব। থিয়াগো সিলভা ও নেইমারের পর কেউ দলকে একসূত্রে গেঁথে রাখতে পারছেন না। মার্কিনহোস, ক্যাসেমিরোরা অভিজ্ঞ, কিন্তু মাঠে সেই চিরায়ত ব্রাজিলিয়ান আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের ছাপ কম। ফুলব্যাকে দুর্বলতা, অ্যালিসনের ইনজুরি সমস্যা এবং সামগ্রিক আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দলকে আরও চাপে ফেলছে।
ব্রাজিল গ্রুপ সি তে আছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও বাস্তবে দলের অসংগতি চিন্তার কারণ। বুকমেকারদের তালিকায় তারা স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনার পরে আছে। আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু উন্নতি হয়েছে, কিন্তু ধারাবাহিকতা এখন সেভাবে চোখে পড়েনি।
এসটি