স্পোর্টস ডেস্ক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের প্রীতি ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও মাঠের বাইরের পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। ফুটবলের সৌন্দর্যের পরিবর্তে স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণা ও বর্ণবাদের বিষাক্ত বাতাস।
ম্যাচ শুরুর আগেই অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে। মিশরের জাতীয় সংগীত বাজার সময় স্প্যানিশ সমর্থকরা সজোরে দুয়ো দিতে থাকেন। এরপর ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে বারবার উঠে আসে মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান। সবচেয়ে আপত্তিকর ছিল ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’। এমন ধরনের চিৎকার। মিশরীয় খেলোয়াড়রা যখন মাঠে সিজদায় পড়েন, তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার ভেসে আসে।
প্রথমার্ধেই পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দর্শকদের একাধিকবার সতর্ক করতে হয়। জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশেষ বার্তা প্রচার করা হয় এবং মাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হয় উগ্রবাদী ও বর্ণবাদী আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও সতর্কবার্তা দেওয়া হলে একাংশ দর্শক উল্টো দুয়োধ্বনি দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্পেনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতিতে বলেছে, ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তারা ঘোর বিরোধী এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরনের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্টভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো ধরনের ঘৃণা ও বর্ণবাদকে ঘৃণা করি। এটা একেবারেই অসহনীয়।” স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা প্রদর্শনের সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক বলে উল্লেখ করেন।
কোচ আরও বলেন, “যারা এমন আচরণ করছে তারা ফুটবলের কলঙ্ক। স্টেডিয়ামের অধিকাংশ সাধারণ সমর্থকই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা ফুটবলের কেউ নয়। তারা শুধু ফুটবলের সুযোগ নিয়ে নিজেদের অসুস্থ মনোভাব প্রকাশ করে। এদের সমাজ থেকে যত দূরে রাখা যায়, ততই ভালো।”
এসটি