images

স্পোর্টস / ফুটবল

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে ‘গোয়েন্দাগিরি’ বিতর্কে ইতালি-বসনিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

ম্যাচের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এক অভাবনীয় ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সারায়েভো। স্বাগতিক বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও ইতালির মধ্যকার ভাগ্যনির্ধারণী প্লে-অফ ফাইনালের প্রস্তুতি চলাকালীন বসনিয়ার রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে ইতালীয় এক সেনাসদস্যের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ক্লিক্সবা’ এ ঘটনাকে সরাসরি ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ বলে অভিহিত করায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও ফুটবলীয় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

সোমবার সারায়েভোর এফকে সারায়েভো ট্রেনিং ক্যাম্পে এডিন জেকোর নেতৃত্বে বসনিয়া দল শেষ মুহূর্তের অনুশীলন করছিল। ফিফা নিয়ম অনুসারে প্রথম ১৫ মিনিট অনুশীলন সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এরপর তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, পাশেই অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফোর্স (ইইউফোর) ক্যাম্প থেকে সামরিক পোশাক পরা এক ইতালীয় সেনাসদস্য অনুশীলন দেখতে দেখতে হঠাৎ স্মার্টফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি লক্ষ্য করে ছবি তুলে ফেলেন, যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

বসনিয়া ফুটবল ফেডারেশন এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা ইইউফোর মিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দাবি করেছে, এটি ইতালীয় কোচ জেনারো গাত্তুসোর দলকে কৌশলগত সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত গোয়েন্দাগিরি।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ওই ব্যক্তি ইতালীয় কারাবিনিয়েরি বাহিনীর সদস্য এবং শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত। তিনি নিছক ফুটবলপ্রেমী হিসেবে পাশের ক্যাম্প থেকে অনুশীলন দেখছিলেন। ইতালীয় জাতীয় দলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

এই ম্যাচটি উভয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে উভয়েই মরিয়া। এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে এ ধরনের ঘটনা পুরো ফুটবল মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে ফিফা-উয়েফা উভয়কেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

বর্তমানে সারায়েভোয় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ম্যাচের আগের এই নাটকীয়তা শুধু দুই দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতাতেই প্রভাব ফেলবে না, দর্শকদের মধ্যেও তীব্র আবেগ তৈরি করেছে। ক্লিক্সবা সহ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে ‘ফুটবল যুদ্ধের নতুন অধ্যায়’ বলে বর্ণনা করছে।