স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির বিনোদন সংস্থা জিওস্টার বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। স্থানীয় অংশীদার টি স্পোর্টসের বিরুদ্ধে অর্থপ্রদানে বারবার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জিওস্টার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তা জানা গেছে।
জিওস্টার ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে টি স্পোর্টসকে লেখা এক চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, “চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা হলো”। ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব টি স্পোর্টসের কাছে সাব-লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। জিওস্টারের অভিযোগ, টি স্পোর্টস চুক্তির নির্ধারিত সময়ে পেমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার।
একই তারিখে আরেকটি চিঠিতে জিওস্টার নারীদের প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল)-এর বাংলাদেশ সম্প্রচার চুক্তিও বাতিল করেছে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার আইপিএল সম্প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর কারণ ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাদ দেওয়া। ঠিক সেই সময় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়ে উঠেছিল, বিশেষ করে এক হিন্দু যুবকের হত্যাকাণ্ডের পর।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করছিল। শনিবার সরকার জানিয়েছিল, খেলাধুলা মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু জিওস্টারের চুক্তি বাতিলের ফলে এখন আর কোনো স্থানীয় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও এবারের আইপিএল মৌসুমে বাংলাদেশে আইপিএল দেখার আইনি কোনো উপায় থাকবে না।
আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগ, যার মূল্যায়ন ১৮.৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে ক্রিকেটের অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণে আইপিএল এখানকার দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। প্রতি মৌসুমেই লাখো দর্শক উন্মুখ হয়ে থাকেন। এবারের আইপিএল মৌসুম শুরু হয়েছে ২৮ মার্চ।
দুই দেশের সম্পর্ক গত আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার পতনের পর বেশ চাপের মধ্যে পড়ে। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা যায়। তবে নতুন সরকারের প্রধান তারেক রহমান ফেব্রুয়ারিতে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। এতে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গিয়েছিল।
জিওস্টারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এবার আইপিএল ও ডব্লিউপিএল দেখতে বঞ্চিত হতে পারেন। যদি সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও করে, তবু কোনো বৈধ সম্প্রচারকারী না থাকায় দর্শকরা হয়তো অনলাইন স্ট্রিমিং বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক উপায়ের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
এ বিষয়ে জিওস্টার, টি স্পোর্টস এবং বাংলাদেশের খেলাধুলা ও তথ্য মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।