images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

ঢাকার বকেয়া তিন কোটি ছাড়িয়েছে, কঠোর অবস্থানে বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

বিপিএল শেষ হওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়রা এখনও পুরোপুরি পারিশ্রমিক পাননি। টুর্নামেন্ট শেষের ৪৫ দিনের মধ্যে শতভাগ টাকা পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এই ফ্র্যাঞ্চাইজি একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসার পর বিসিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সচিব ও বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঢাকা ক্যাপিটালসের বকেয়া এখনও তিন কোটি টাকার বেশি। তিনি বলেন, “খেলোয়াড়রা এক কথা বলছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি আরেক কথা। আমরা খেলোয়াড়দের কথাই শুনবো, ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা নয়।”

বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক তিন কিস্তিতে দেওয়ার কথা। ২৫ শতাংশ খেলা শুরুর আগে, ৫০ শতাংশ খেলা চলাকালীন; বাকি ২৫ শতাংশ টুর্নামেন্ট শেষের ৪৫ দিনের মধ্যে। 

মিঠু জানান, অন্য সব ফ্র্যাঞ্চাইজি এই নিয়ম মেনে পুরো টাকা পরিশোধ করেছে। শুধু ঢাকা ক্যাপিটালস বাকি। খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, তারা মাত্র ২৫ শতাংশের মতো পেয়েছেন। পরে কিছু অংশ (৫০-৬০ লাখ টাকা) দেওয়া হলেও বড় অংশ এখনও অপরিশোধিত। 

বিসিবি বারবার চিঠি দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে হিসাব জমা দিতে বলা হয়। অন্য দলগুলো যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঢাকা বারবার চিঠি পেলেও পুরোপুরি সাড়া দেয়নি।

মিঠু স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধৈর্যেরও সীমা আছে। টুর্নামেন্ট শেষের ৬০ দিন পেরিয়ে গেছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই গভর্নিং কাউন্সিল সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে। 

ঢাকা ক্যাপিটালসের পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ও পাঁচ কোটি টাকার চেক রয়েছে বিসিবির কাছে। যদি এই সপ্তাহে টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাংক গ্যারান্টি ও চেক থেকে খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ করা হবে। ব্যাংক গ্যারান্টির মেয়াদ ১৫ মে পর্যন্ত, আরেকটির আরও ছয় মাস আছে। তাই খেলোয়াড়দের টাকা নিরাপদ বলে জানিয়েছেন মিঠু।

তিনি আরও বলেন, “আমরা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছি যে তিন কোটি টাকার বেশি বাকি। ফ্র্যাঞ্চাইজির কথায় চলবো না।”

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বাইরে খেলা আয়োজন নিয়েও কথা বলেন মিঠু। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ইচ্ছায় এবার প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সিলেটে হয়েছে। নারী বিপিএলও ঢাকার বাইরে উদ্বোধন হচ্ছে। লক্ষ্য হলো ক্রিকেটকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। 

ভবিষ্যতে ঢাকার বাইরে ম্যাচ হলে নির্বাচক ও স্কাউটদেরও সেখানে পাঠানো হবে, যাতে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা যায়।