স্পোর্টস ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না হওয়ার ঘটনা নিয়ে এখন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সোমবার (১৭ মার্চ) মিরপুরের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ক্রীড়া কূটনীতির ঘাটতি এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ আসরে খেলতে পারেনি। এর পেছনের সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিসিবি ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমিনুল বলেন ‘আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি যে বিশ্বকাপ হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে আমরা সেই বিশ্বকাপটি খেলতে যেতে পারিনি। কিন্তু কেন এটি হয়েছে সেটিও আসলে তদন্ত করে দেখার বিষয় রয়েছে। এবং আমি আশা করি যে এই বিষয়গুলো নিয়েও আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। করে আমি পরবর্তীতে যে কেন আমরা বিশ্বকাপ খেলতে গেলাম না, কেন আমাদের কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাব ছিল, সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তীতে আসলে আমি এগুলো প্রতিবেদন আকারে ক্রিকেট বোর্ড এবং যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কাছ থেকে আমি অবশ্যই চাইব।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপটি ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য উদ্বেগের কারণে বিসিবি ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশনায় এই অবস্থান নেওয়া হয়। আইসিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ মানা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি। এতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের মধ্যে দূরত্বও তৈরি হয়।
ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছিল। সম্প্রতি কোয়াবের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের একটি দল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। আমিনুল হক জানান, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের ‘কোয়াব’ মিঠুনের নেতৃত্বে একটি ক্রিকেটারদের একটি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কথাগুলো শুনেছি। আশ্বস্ত করেছি যে ঈদের পরে কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ পদক্ষেপ নেব।’
একই সঙ্গে বিসিবির সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এর জন্য আলাদা কমিটি গঠন করেছে, যা নিয়ে বিসিবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় বোর্ডে হস্তক্ষেপ হয়েছে, যা সবাই জানে। তদন্তে পুরনো নির্বাচন কমিশনের সদস্য, বর্তমান বোর্ড কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলা হবে। আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় ডিসিরা একবার কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন, পরে বিসিবি সভাপতির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আবার দ্বিতীয়বার পাঠানো হয়; এটি স্পষ্ট ঘটনা। এসব তদন্তের মাধ্যমে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
এসটি