images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

‘সার্জারি তো নির্বাচক দলে হওয়া উচিত’

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশটির ক্রিকেটাররা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সেই চাপ কিছুটা কমাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল তাদের সামনে, কিন্তু শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। সিরিজটি তারা ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে।

মিরপুরের অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তান ১১ রানে পরাজিত হয়। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৯০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে সিরিজ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের পক্ষে।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টানা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল। সর্বশেষ ২০১৫ সালে দুই দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়েছিল, যেখানে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল। এরপর থেকে পাকিস্তান বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি।

পাকিস্তানের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি নির্বাচক কমিটির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আফ্রিদির মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পরও নির্বাচকরা সঠিক পথে হাঁটছেন না।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স সবাই দেখেছে। এরপর বাংলাদেশ সিরিজও আমরা ২-১ ব্যবধানে হেরেছি। আমার মনে হয় নির্বাচক কমিটির সমালোচনা প্রাপ্য। আপনারা এত ক্রিকেট খেলেছেন, তবুও কোন ফরম্যাটে কাকে অধিনায়ক করা উচিত, সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা নেই বলে মনে হয়।’

এই সিরিজে পাকিস্তান ৬ জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছিল। আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, গাজী ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান এবং শামিল হুসেনের মতো খেলোয়াড়রা ওয়ানডে অভিষেক করেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও খুব কম ম্যাচ খেলেছেন। আফ্রিদি এই ‘সার্জারি’ নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারা ‘সার্জারি’ বলে অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমন তরুণ খেলোয়াড়দের দলে নিচ্ছেন যারা মাত্র কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছে। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান এমন নয় যে সেখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিট হয়ে যাবে। যেসব সিনিয়র খেলোয়াড়ের ওয়ানডেতে ভালো রেকর্ড ছিল, তাদেরও বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে; এটা ঠিক নয়।’

শহীদ আফ্রিদি বলেন, ‘সার্জারির নামে বেশি বেশি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যা করছেন তা হলো এমন তরুণ ও খেলোয়াড়দের তুলে আনছেন যারা মাত্র কয়েকটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। আপনাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান এতটাও ভালো নয় যে সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তান দলে জায়গা নেওয়ার মতো খেলোয়াড় আসবে।’