স্পোর্টস ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সারফরাজ আহমেদ। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন উইকেটকিপার-ব্যাটার। ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতানো সারফরাজ তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ২০০৭ সালে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। এরপর ২০১০ সালে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবার পাকিস্তানের জার্সিতে মাঠে নামেন।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে করেছেন মোট ৬ হাজার ১৬৪ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি অর্ধশতক। উইকেটের পেছনেও ছিলেন দারুণ সফল। তার ঝুলিতে রয়েছে ৩১৫টি ক্যাচ ও ৫৬টি স্টাম্পিং। নেতৃত্বের দিক থেকেও সারফরাজের সময়টা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার অধিনায়কত্বে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্বের এক নম্বর দল হয়েছিল পাকিস্তান।
সারফরাজের অধীনে পাকিস্তান টানা ১১টি টি–টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়ে। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দুইবার), শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ছয়টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশও করে দলটি। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান দলে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি, ইমাম-উল-হক, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান ও শাদাব খানের মতো ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে সুযোগ করে দেন তিনি।

সারফরাজের অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালে। ইংল্যান্ডের দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতেন তিনি। পাশাপাশি জুনিয়র ও সিনিয়র- দুই পর্যায়ের আইসিসি ট্রফি জেতা একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়কও সারফরাজ। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান।
ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে তাকে দেওয়া হয় পাকিস্তানের বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’। এই সম্মান পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী পাকিস্তানি অধিনায়কও তিনি। ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও রয়েছে কয়েকটি রেকর্ড। ২০১৯ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্টে ১০টি ক্যাচ নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড গড়েন তিনি।
এ ছাড়া লর্ডসে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা একমাত্র পাকিস্তানি উইকেটকিপার-ব্যাটারও সারফরাজ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই শতকটি করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচেই ছিল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অবসর ঘোষণার সময় জাতীয় দলের হয়ে নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করেন সারফরাজ। তিনি সতীর্থ, কোচ, পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সারফরাজ বলেন, “পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জেতা থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা- পাকিস্তানের জার্সিতে প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ।” তিনি আরও বলেন, “তিন ফরম্যাটে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া ছিল স্বপ্ন পূরণের মতো। আমি সব সময় নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে এবং ঐক্যবদ্ধ একটি দল গড়ে তুলতে চেয়েছি। আমার অধিনায়কত্বে বাবর আজম, ফখর জামান, হাসান আলি, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খানের মতো খেলোয়াড়দের ম্যাচজয়ী ক্রিকেটারে পরিণত হতে দেখা আমার জন্য গর্বের।”
শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট তার হৃদয়ের খুব কাছের এবং ভবিষ্যতেও যেকোনোভাবে এই খেলাকে সমর্থন করে যাবেন।