স্পোর্টস ডেস্ক
০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্রিকেট ম্যাচে উপস্থিতি ঘিরে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্নাটক সরকারের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খার্গে দাবি করেছেন, মোদি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকলে ভারতীয় দলের জয়ের সম্ভাবনা কমে যায়, এমন একটি ‘পরিসংখ্যানগত’ বিষয় নাকি অতীতের ম্যাচগুলোতেই দেখা গেছে।
রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ওই ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন না। এই খবর প্রকাশের পরই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্তব্যটি করেন প্রিয়াঙ্ক খার্গে।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মোদি স্টেডিয়ামে না থাকাটা ভারতের জন্য ইতিবাচক খবর হতে পারে। খার্গের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যখনই কোনো ম্যাচে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, সেসব ম্যাচে ভারত পরাজিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটি নিজের মতামত নয়; তথ্য যাচাই করলেই বিষয়টি বোঝা যাবে।’
এ সময় স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও টেনে আনেন কর্নাটকের এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে এই মাঠের নাম ছিল সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়াম, পরে সেটির নাম পরিবর্তন করে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম রাখা হয়েছে। তবে নাম বদলালেও মাঠের ‘ভাগ্য’ বদলায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খার্গে কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় পেলেও সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তবে ক্রিকেট মাঠে মোদির উপস্থিতিকে অশুভ বলার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে আহমেদাবাদের একই স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হারের পর রাহুল গান্ধী এক জনসভায় মোদিকে ‘পানাউতি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ‘পানাউতি’ শব্দটি সাধারণত অমঙ্গল বা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সেই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
সম্প্রতি রাজ্যসভা সদস্য হুসেইন দালওয়াইও ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার মতে, ম্যাচটি আহমেদাবাদের বদলে মুম্বাইয়ে আয়োজন করা হলে ভালো হতো। তিনি দাবি করেন, আহমেদাবাদে ম্যাচ হলে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে সেটি ভারতীয় দলের জন্য অশুভ হতে পারে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনুরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেললেও যে ম্যাচে ‘পাপীরা’ উপস্থিত ছিলেন, সেখানেই ভারত হেরে গেছে।
এসটি