স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
ক্রিকেটের মঞ্চে আবারও রোমাঞ্চকর এক রাত। মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালের উত্তেজনা, চাপ আর স্বপ্নের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল ভারত। ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সাত রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দল।
টস জিতে রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইংল্যান্ড। সিদ্ধান্তটা কতটা সঠিক ছিল, তার উত্তর মিলতে শুরু করে পাওয়ার প্লেতেই। ভারতের ওপেনিং জুটি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে। অভিষেক শর্মাকে দ্রুত ফেরাতে পারলেও সাঞ্জু স্যামসনকে থামানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না ইংলিশ বোলাররা।
ওয়াংখেড়ের আকাশে তখন যেন ব্যাটের জাদু দেখাচ্ছিলেন স্যামসন। চার-ছক্কার ঝড় তুলে তিনি খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। মাঠজুড়ে চোখধাঁধানো সব শটে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৮৯ রানে থামলেও ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি।
স্যামসনের বিদায়ের পরও থামেনি ভারতের রানের গতি। শিভম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে রান বাড়তে থাকে দ্রুত। দলগত এই ব্যাটিং তাণ্ডবে নির্ধারিত ওভার শেষে ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ২৫৩ রান।
২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থ হন ওপেনার ফিল সল্ট। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও বড় কিছু করতে পারেননি। তখন দলের আশা গিয়ে পড়ে জস বাটলারের কাঁধে। কিন্তু তিনিও মাত্র ২৫ রান করে বিদায় নিলে ইংল্যান্ডের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে।
এরপরই শুরু হয় এক তরুণ ব্যাটারের লড়াই। জ্যাকব বেথেল একাই যেন ম্যাচে ইংল্যান্ডকে টিকিয়ে রাখেন। ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দারুণ আত্মবিশ্বাসে ব্যাট চালাতে থাকেন তিনি। চারদিকে শট খেলতে খেলতে তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। তার ব্যাটে ভর করেই আবার জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংল্যান্ড।
শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৩৯ রান। তখনও ম্যাচে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে চাপের মুহূর্তে তাল হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩০ রান, যা আর পেরোনো সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে।
নির্ধারিত ওভার শেষে ইংল্যান্ড থামে ২৪৬ রানে। ফলে সাত রানের নাটকীয় জয়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় ভারত।