স্পোর্টস ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে নির্ভরতার আরেক নাম ড্যারিল মিচেল। কিন্তু ভাগ্য ভিন্ন পথে হাঁটলে, হয়তো মিচেলকে দেখা যেত রাগবির মাঠে, বিখ্যাত অ্যাল ব্ল্যাকসের হয়ে খেলতে।
কারণ, তিনি যে কিংবদন্তি রাগবি ব্যক্তিত্ব জন মিচেলর ছেলে। জন নিজে অল ব্ল্যাকসের হয়ে খেলেছেন, ১৯৯৩ সালে ব্রিটেন সফরে ছয়টি আনক্যাপড ম্যাচে অংশ নিয়েছেন, তিনবার অধিনায়কত্ব করেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই দলকে জিতিয়েছেন। পরে তিনি অল ব্ল্যাকসসহ ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের দল কোচিং করিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের মহিলা রাগবি দলের কোচ।
ড্যারিল ছোটবেলায় রাগবি ও ফুটবল দুটোই খেলতেন, কিন্তু প্রেমে পড়লেন ক্রিকেটে। পার্থের হেল কলেজে প্রথম একাদশ রাগবি দলেও জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি টানটা ছিল আলাদা। জন কখনো ছেলেকে রাগবিতে চাপ দেননি। তিনি সবসময় বলতেন, যা ভালো লাগে তাই করো। এমনটায় এক সাক্ষাতকারে জানিয়ে থাকেন মিচেলের বাবা।
“একদিন নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের এক ডেভেলপমেন্ট অফিসার জন মিচেলের কাছে প্রস্তাব দেন ড্যারিলকে ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তোলার। জন রাজি হন। বাবা-ছেলে মিলে বাড়ির পেছনের উঠোনে নানা মজার চ্যালেঞ্জ খেলতেন ১২ বলে ১৫ রান করতে হবে, ছয় বল দ্রুত, ছয় বল ধীর গতির। ছক্কা মারলে থাকত ‘শাস্তি’ও! জন বলেন, 'আমি কখনো ভাবিনি এসব খেলা তাকে এতদূর নিয়ে যাবে। সবকিছু তার নিজের পরিশ্রম আর মানসিকতার ফল।'”
মিচেলের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে পিছনে তার দাদারও ভূমিকা আছে উল্লেখ করে জন মিচেল বলেন, “মাঠে নিয়ে যাওয়া, সাপোর্ট দেওয়া। রাগবির পটভূমি কি ক্রিকেটে কাজে লেগেছে? জন বলেন, “সরাসরি না, কিন্তু হ্যাঁ- বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, মানসিক শক্তি দেখে বড় হয়েছে। জিত-হার থেকে শিখেছে। শরীর বড়সড়, কিন্তু আসল জোর তার কঠোর পরিশ্রমে।”
ড্যারিল ২০১৯ সালে ২৭ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ভারতের বিপক্ষে। একই বছর টেস্টে অভিষেক করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৩ রান করেন। ওডিআই শুরু ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত তিনি ৩৫ টেস্ট, ৫৯ ওডিআই আর ১০২ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ব্যাট হাতে দলের ভরসা। বড় বড় ছক্কা মারেন, চাপের মুহূর্তে রান তুলেন, স্পিনারদের বিপক্ষে সুইপ-রিভার্স সুইপে দারুণ। প্রতিপক্ষ দল তার বিপক্ষে আগে থেকে প্ল্যান করে!
এ প্রসঙ্গ নিয়ে জন গর্ব করে বলেন, “ও যখন নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলে আর জিততে সাহায্য করে, তখন খুব ভালো লাগে। ও পরিপক্ক, নিজের কাজ বোঝে, হার মানে না। ব্ল্যাক ক্যাপস ছোট দল, কিন্তু অনেক বড় সাফল্য পায়। কেইন উইলিয়ামসনের মতো তারাও স্ট্যান্ডার্ড ধরে রেখেছে।”
মাঠের বাইরে ড্যারিল একজন পরিবারমুখী মানুষ। কঠোর অনুশীলনের পর স্ত্রী অ্যামি ও দুই কন্যার সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি গলফ খেলেন এবং বাড়িতে ব্যক্তিগত ট্রেনিং সেটআপে অনুশীলন করেন। জনের ভাষায়, “সে জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে জানে। দেশের হয়ে খেলতে তাকে দেখাটা সবসময়ই গর্বের।”
এসটি