images

স্পোর্টস / ফুটবল

এশিয়ান কাপ অভিষেকে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও বাংলাদেশের হার

স্পোর্টস ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। ধারাবাহিকভাবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের দেখা পাওয়া লাল-সবুজের দল আজকের দিনেই পা রেখেছে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মিশনে। প্রথমারের মত এশিয়ান কাপের মঞ্চে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপে নিজেদের অভীষেক ম্যাচে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। শক্তিশালি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করলেও দ্বিতীয়ার্ধে এক গোলও জড়ায়নি বাংলাদেশের জালে। তবে কোনো গোল করতে না পারায় মুগ্ধতা ছাড়ানো লড়াইয়ের পরও ২-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফঈদাদের। 

এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে বেশ চমকই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার। এ ম্যাচে দলে রাখেননি অভিজ্ঞ গোলকিপার রুপ্না চাকমাকে। বদলে খেলেন তরুণ মিলি আক্তার। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চতার কারণে মিলিকে এই ম্যাচে বেছে নিয়েছেন কোচ।

৫ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে নেমে শুরু থেকে বেশ ভালোই খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাঁ উইং ফাঁকা পেয়ে যান বাংলাদেশের তারকা উইঙ্গার ঋতুপর্না। গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে নিয়েই বাঁ পায়ের দুরপাল্লার শট নেন। কিন্তু চীনের গোলরক্ষকের ক্ষীপ্রতায় গোলবঞ্চিত হয়ে বাংলাদেশ। 

এরপর চীনের বেশ কয়েকটি আক্রমণ বেশ ভালোভাবেই সামলিয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণ। ম্যাচের ২৪ মিনিটে যদিও একবার বাংলাদেশের জালে বল দিতে পেরেছিল চীন। তবে দীর্ঘ ভিএআর চেকের পর তা বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।

তবে গোল বাতিল হলেও শেষে বাংলাদেশকে প্রথমার্ধ শেষ করতে হয়েছে ২ গোলে পিছিয়ে থেকে। ৪৪ মিনিটে দুরপাল্লার শটে গোল করলেন চীনের মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। এরপর মিনিট দুয়েক পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার ঝ্যাং রুই। তাঁর নেওয়া শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে জালে জড়ায়।  

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দল মাঠে নামে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে। মিডফিল্ডার উমহেলা মারমাকে তুলে ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকে নামান বাটলার। ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের বদলে খেলতে নামেন হালিমা আক্তার। এরপর ৫৩ মিনিটে ডিফেন্ডার নবীরনকে তুলে মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীকে মাঠে নামানো হয়। স্বপ্না মাঠে নামার পর আক্রমণের গতি পায় বাংলাদেশ। তবে স্বপ্নাকে সঙ্গ দিতে পারছিলেন না দলের অন্য কেউ। চীনের মেয়েদের বিপক্ষে লড়াই করে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না মেয়েরা। 

বেশ কয়েকবার আক্রমণ গতি পেলেও তা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। এদিকে চীনের আক্রমণও রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।