স্পোর্টস ডেস্ক
০২ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ পিএম
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ রুপি (৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি) করে জরিমানা করা হয়েছে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতের কাছে হারের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়। বোর্ডের কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এখন থেকে আর্থিক সুবিধা বা বোনাস সম্পূর্ণভাবে মাঠের ফলাফল ও পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। শুধু নাম-সুনাম বা অতীতের খ্যাতির ভিত্তিতে কোনো সুবিধা মিলবে না। খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য শাস্তি যেমন থাকবে, তেমনি ভালো খেললে পুরস্কারও পাওয়া যাবে, এই নীতি এখন থেকে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু থেকেই টালমাটাল ছিল। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোনোমতে হার এড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয় ঘটে। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে স্পিন-সহায়ক উইকেটে প্রত্যাশা ছিল অনেক, কিন্তু পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করে দল হেরে যায়। নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়ে সুপার এইটে উঠলেও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়, ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর অন্যদের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেও নেট রান রেটের কারণে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।
দলের ব্যাটিং লাইনআপে সাহিবজাদা ফারহান সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান করে সেরা পারফর্মার হিসেবে উঠে আসেন। ফখর জামান শেষদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০+ স্ট্রাইক রেটে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যা দেখিয়ে দেয় শুরুতে দল কী হারিয়েছে। কিন্তু সিনিয়র ব্যাটাররা বাবর আজম, সালমান আলি আগা, সাইম আইয়ুব, উসমান খান কেউই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। বোলিংয়ে উসমান তারিক ১০ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ালেও অন্যরা গড়পড়তা ছিলেন।
অধিনায়ক সালমান আলি আগা ব্যাট হাতে ও নেতৃত্বে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। প্রধান কোচ মাইক হেসনের প্রভাব এবং দলের থিংক ট্যাংকে শাদাব খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমর্থকদের হতাশা স্বীকার করে বোর্ড জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই জরিমানার পথ বেছে নিয়েছে।
নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬) অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় এ ক্যাটাগরিতে নেই। বি, সি, ডি ক্যাটাগরিতে মাসিক বেতন ও আইসিসি শেয়ার থেকে আয়ের পাশাপাশি ম্যাচ ফি আলাদা। এই জরিমানা খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
এসটি