images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে যেসব ভুলের কথা জানালেন লঙ্কান অধিনায়ক

স্পোর্টস ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

শ্রীলঙ্কার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর হতাশা আর আত্মসমালোচনার সুরই শোনা গেল অধিনায়ক দাসুন শানাকার কণ্ঠে। বুধবার নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬১ রানে হেরে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। কলম্বোর খেত্তারামা স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভরা দর্শকের সামনে এই হারের মধ্য দিয়েই তারা প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষে শানাকা দলের ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ তুলে ধরেন। দলের চারপাশে অতিরিক্ত নেতিবাচক পরিবেশ, বোলার–সহায়ক উইকেট এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোট সমস্যা। বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিক খারাপ ফলের কারণে সমালোচনার মুখে ছিল শ্রীলঙ্কা। শানাকার মতে, এই সমালোচনা অনেক সময় অযৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

“আমরা যতই ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি, মাঠের বাইরে অনেক নেতিবাচকতা থাকে। এটা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি,” বলেন তিনি। স্টেডিয়ামের বাইরে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সমালোচকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকেই ম্যাচ না দেখেই মন্তব্য করেন। শ্রীলঙ্কা টানা জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় সমালোচনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সরকারকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শানাকা।

খেত্তারামার উইকেট নিয়ে দল ও টিম ম্যানেজমেন্টের ভুল পড়ার কথাও স্বীকার করেছেন শানাকা। শুরু থেকেই এতটা স্পিন সহায়তা মিলবে, তা তারা ভাবেননি। নিউজিল্যান্ডের স্পিনারদের বিপক্ষে ছয় উইকেট হারিয়ে ১০৭/৮ রানে থামে শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টের উইকেটগুলো আরও ব্যাটিং–বান্ধব হতে পারত বলেও মত দেন তিনি। তার দাবি, দলে জায়গা পাওয়া ব্যাটারদের সবারই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো স্ট্রাইক রেট ও সামর্থ্য রয়েছে- কাউকে জোর করে নেওয়া হয়নি। তবে প্রত্যাশিত কন্ডিশন না পেলে ম্যাচ অপ্রত্যাশিতভাবে হাতছাড়া হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টুর্নামেন্টজুড়ে চোটও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে শ্রীলঙ্কার জন্য। লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা প্রথম ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েন। পেসার মাথিশা পাথিরানা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কাফ মাংসপেশিতে টান পান। এর আগে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ছিটকে যান ইশান মালিঙ্গা। শানাকার ভাষায়, “ফিটনেসকে আপসযোগ্য রাখা যায় না। এতগুলো চোট থাকলে ভালো ফল পাওয়া কঠিন। কিছু খেলোয়াড় ফিটনেসের কারণেই দলে ঢুকতে পারছে না, এটা আমরা কয়েকটি বিশ্বকাপ ধরেই আলোচনা করছি।”

কলম্বো ও পাল্লেকেলেতে সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন শানাকা। “বিশ্বকাপে নিজের দেশে খেলার সুযোগ সবার জীবনে একবারই আসে। সেমিফাইনালে ওঠার ইচ্ছা সবারই ছিল। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। সমর্থকদের যা দিতে চেয়েছিলাম, তা দিতে পারিনি, এ জন্য আমরা দুঃখিত,” বলেন তিনি।