স্পোর্টস ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মরক্কোর রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো পথকুকুরদের নিয়ে উঠেছে এক বিতর্কিত অভিযোগ। যা এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে দেশটি যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, লক্ষ লক্ষ এমনকি প্রায় ৩০ লাখ পথকুকুরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে শুধুমাত্র শহরগুলোকে ‘পরিষ্কার’ ও ‘সুন্দর’ দেখানোর জন্য।
ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তদন্তে উঠে এসেছে যে, কুকুরদের গুলি করে, বিষ প্রয়োগ করে, পিটিয়ে, এমনকি জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাতের অন্ধকারে ভ্যানে করে কুকুর ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং তাদের দেহাবশেষ ফেলে রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ওজদা শহরের একটি আবাসিক এলাকায় এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে স্থানীয়রা গুলির শব্দ শুনে দেখতে পান মৃত কুকুরের দেহ।

প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলো, যেমন আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ ও সুরক্ষা জোট (আইএডব্লিউপিসি) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গ্রুপ, দাবি করছে যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের মাত্রা বেড়েছে। তারা ফিফাকে অভিযুক্ত করেছে যে, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি চুপ করে আছে। মরক্কো সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা মানবিক পদ্ধতিতে প্রাণী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং কোনো হত্যাকাণ্ড বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা ট্র্যাপ-নিউটার-ভ্যাকসিনেট-রিলিজ প্রোগ্রামের কথাও উল্লেখ করেছে, যদিও অনেকে বলছেন এটি বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।

এই ঘটনার প্রভাব শুধু প্রাণীদের ওপরই সীমাবদ্ধ নয়। ফেয়ারস্কয়ার নামের একটি অধিকার সংস্থা জানিয়েছে, প্রকাশ্যে এসব নৃশংসতা দেখে অনেক শিশু গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছে। এক মা (লতিফা) জানিয়েছেন, তার কিশোরী মেয়ে রাস্তার কাছে একটি গুলিবিদ্ধ কুকুরের মৃতদেহ দেখে মর্মাহত হয়েছে। যার শাবকরা এখনও মায়ের দেহ থেকে দুধ খাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ ধরনের দৃশ্য শিশুদের মনে স্থায়ী ট্রমা তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন ফিফার কাছে দাবি জানাচ্ছে যেন তারা মরক্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই নিধন বন্ধ করায়। প্রশ্ন উঠছে, একটি বিশ্বমঞ্চের খেলা যখন আনন্দের হওয়ার কথা, তখন কেন তার প্রস্তুতিতে এত নির্মমতা?
এসটি