স্পোর্টস ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- ২০২৬ এর সুপার এইট পর্বের কাঠামো নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে ওঠা আট দলের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সমালোচনার মূল কারণ ‘প্রি-সিডিং’ পদ্ধতি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আইসিসি নির্দিষ্ট স্লট নির্ধারণ করে দেয়। যেমন- এ১, বি১, সি১, ডি১- যেখানে শীর্ষ দলগুলোকে বসানো হয়। এর ফলেই সুপার এইটের দুই গ্রুপে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
গ্রুপ–১ এ রয়েছে চারটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন- ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে গ্রুপ–২ এ জায়গা পেয়েছে চারটি রানার্সআপ দল- পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।
এমন কাঠামোয় প্রথম পর্বে সেরা পারফর্ম করা চার দলের মধ্যে অন্তত দুই দল সেমিফাইনালে ওঠার আগেই বাদ পড়বে। অন্যদিকে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া একটি দল তুলনামূলক সহজ পথ পেয়ে যেতে পারে শেষ চারে ওঠার জন্য। সাধারণত ক্রীড়া টুর্নামেন্টে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কৃত করার মতো কাঠামো রাখা হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থায় শীর্ষে থেকে শেষ করার বিশেষ সুবিধা থাকছে না।
উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার কথা বলা হচ্ছে। নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকেও তারা কার্যত কম সুবিধাজনক অবস্থানে পড়েছে, কারণ নিউজিল্যান্ড যারা নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয়, আগেই তুলনামূলক উঁচু সিড পেয়েছিল। ফলে সুপার এইট নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্বও কমে গেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এতে টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা নষ্ট হচ্ছে।
সমালোচকেরা আরও বলছেন, সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কাও সূচির কারণে বঞ্চিত হতে পারে। পুরো টুর্নামেন্টে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ থাকলেও সেমিফাইনালে উঠলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের ভারত যেতে হবে। এতে কলম্বোতে ঘরের দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগ হারাতে পারে তারা। তবে আইসিসি এই কাঠামোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। সংস্থার মতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণে আগেভাগেই ভেন্যু ও সূচি পরিকল্পনা করা জরুরি ছিল। সেই কারণেই প্রি-সিডিং পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।