images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাবরের কারণেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হই: ইউসুফ

স্পোর্টস ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজমকে নিয়ে বড় বিতর্ক চলছে। সাবেক কিংবদন্তি ব্যাটার ও নির্বাচক মোহাম্মদ ইউসুফ সম্প্রতি এক পডকাস্টে খোলাখুলি বলেছেন, তিনি বাবরকে টি-টোয়েন্টি থেকে বিশ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ইউসুফ বলেন, গত ২-৩ বছর ধরে বাবরের টেকনিক একদম নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকে বলেন তিনি ফর্ম হারিয়েছেন, কিন্তু আসলে এটা ফর্মের সমস্যা নয়-এটা দীর্ঘদিনের খারাপ পারফরম্যান্স। কোনো খেলোয়াড় দুই-তিন সিরিজ খারাপ খেলে ফর্ম হারাতে পারে, কিন্তু বাবর তো বছরের পর বছর রান পাচ্ছেন না। যখনই তিনি বাবরকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা বলেন, তখন সবাই তার বিরুদ্ধে চলে যায়। এ কারণেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে কয়েক সিরিজ পর বাবরকে সত্যিই ছেড়ে দেওয়া হয়। 

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, 'গত ২-৩ বছর ধরে এটা বলে আসছি যে, বাবরের টেকনিক খারাপ হয়ে গেছে। একজন ক্রিকেটার তিন বছর ধরে বাজে ফর্মের মধ্যে থাকতে পারে না, ফর্ম খারাপ থাকতে পারে সর্বোচ্চ দুই-তিন সিরিজে। চারদিকে বলতে শোনা শোনা যায়, বাবর আজকালই না ফর্মে নেই, তো কি হয়েছে? কিন্তু সে আজকাল নয়, তিন বছর ধরে রান করছে না।'

'যখন আমি নির্বাচক ছিলাম, তখন পরামর্শ দিয়েছিলাম যে, বাবরকে বিশ্রাম দাও, তাকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে পাঠাও, তখন সে একাডেমিতে এসে টেকনিক নিয়েও কাজ করতে পারবে। যখন সে সমস্যা কাটিয়ে উঠবে তখন তাকে ফেরানো যাবে। তখন সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে যায়। এই কারণে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হই। কয়েকটি সিরিজ পর ঠিকই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। আজ বাবরের সঙ্গে যা ঘটছে, সেটা একই ব্যক্তিদের কারণে, যারা ওই সময় আমার কথায় সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।'

বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (২০২৬) বাবরের পারফরম্যান্সও খুবই হতাশাজনক। চার ম্যাচে মাত্র ৬৬ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১১৫.৭৮। নামিবিয়ার বিপক্ষে তো ব্যাটই করতে নামেননি। ২০২৪ বিশ্বকাপেও চার ম্যাচে ১২২ রান করেছিলেন স্ট্রাইক রেট ১০১.৬৬-এ, আর পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। এবার তাকে নাম্বার ৪-এ খেলানো হয়েছে, যেখানে ২০১৭ সালের পর এটাই তার প্রথম।

ইউসুফ আরও কড়া কথা বলেছেন, ''বাবরের ক্ষেত্রে 'মাইন্ডসেট' বা মানসিকতার কথা খুব বেশি বেচা হচ্ছে, কিন্তু স্কিল না থাকলে মন দিয়ে কী হবে? তিনি বলেন, ইনজামাম-উল-হক, সাঈদ আনোয়ার, জহির আব্বাসের মতো খেলোয়াড়দের লেভেলের সঙ্গে বাবরের তুলনাই চলে না। তারা ছিলেন অন্য মাপের। বাবর তাদের সামনে কিছুই না।''

বাবরের শেষ টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ২০২৩ সালে। এরপর ৩৯ ম্যাচে ১০৮৬ রান করেছেন, গড় ৩২.৯ আর স্ট্রাইক রেট ১২৭.৪৬ যা টি-টোয়েন্টির জন্য যথেষ্ট নয়। বিশ্বকাপের আগে বিগ ব্যাশ লিগ খেলে ফর্ম ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সমালোচনা আরও বেড়েছে।

এসটি