স্পোর্টস ডেস্ক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
বাইশ গজ হোক কিংবা রাজনীতির মাঠ। এক সময়ে বুক ফুলিয়ে শাসন করেছেন ইমরান খান। ১৯৯২ সালের পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি ক্রিকেটার, সেই দেশের সাবেক প্রধামন্ত্রীও। সেই ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে ইমরান ও তাঁর স্ত্রী জেলবন্দি, ক্ষমতা হারানোর পর একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে তারা। ইমরান আজ ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন! ভয়াবহ অবনতি হয়েছে শরীরের! এই খবর বাইরে আসতেই রাজনীতি ও কূটনীতির বেড়াজালের বাহিরে দেশটির এবং অন্যদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবং তাকে 'মর্যাদা ও ন্যূনতম মানবিক বিবেচনা' দিয়ে আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যা নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকরা বেশ চিন্তিত।
ইমরান খানের বোনেরা ডা. উজমা খান ও আলীমা খান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি একটি ষড়যন্ত্র করে ইমরান খানকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছেন। উজমা খান বলেন, জেলে সাক্ষাতের সময় ইমরান নিজেই তাদের বলেছেন, “এরা আমাকে মেরে ফেলবে, এরা আমাকে খুন করার প্ল্যান করেছে।”
আলীমা খান আরও জানান, তার ভাইয়ের চোখের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাকে তার বিশ্বস্ত চিকিৎসকদের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ডাক্তারদের (ডা. আসিম, ডা. ফয়সাল এবং তাদের চাচাতো ভাই নৌশেরওয়ান বুরকি) নাম প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আলীমা বলেন, “মহসিন নকভি আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। তারা রক্তের স্বাদ পেয়েছে। ইমরান বা আমাদের কিছু হলে আমরা কাউকে ছাড়ব না, এমনকি তাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও না।”
এদিকে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়করা যেমন ভারতের সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েডসহ মোট ১৪ জন কিংবদন্তি অধিনায়ক একটি যৌথ আবেদনপত্রে পাকিস্তান সরকারের কাছে দাবি করেছেন। যেন ইমরান খানকে মানবিক ও ন্যায্য ব্যবহার করা হয়। তারা চান, তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হোক এবং মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা হোক। (এই তালিকায় ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসের মতো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নাম না থাকলেও আন্তর্জাতিক তারকাদের সমর্থন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।)
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমরানের চোখের চিকিৎসা করা হয়েছে এবং অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পরিবার ও পিটিআই দল এই দাবি মানতে নারাজ। এই ঘটনা নিয়ে পাকিস্তানে বিক্ষোভও চলছে।
ইমরান খান ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক এবং দেশের একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
এসটি