স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডস আরেকবার চমক দেখাতে প্রায় সফল হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ উইকেটের নাটকীয় হার মেনে নিতে হয়েছে ডাচদের। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে ৩ উইকেটে (৩ বল বাকি থাকতে)।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ১২.১ ওভারে ১০০ রান তুলে ফেলেছিল। কিন্তু এরপর মিডল অর্ডার ধসে পড়ে এবং তারা ১৯.৫ ওভারে অলআউট হয় ১৪৭ রানে। পাকিস্তানের বোলাররা দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে দলকে চাপে রেখেছিল।
জয়ের জন্য ১৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল। সাহিবজাদা ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রান করে দলকে এগিয়ে নেন। একপর্যায়ে ৯ ওভারে ৫০ রান দরকার ছিল এবং হাতে ৮ উইকেট। বাবর আজম ও ফারহান ক্রিজে থাকায় জয় যেন হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল।
কিন্তু পাকিস্তান তো পাকিস্তানই! মিডল অর্ডারে আচমকা ধস নামে। পল ফন মিকেরেনের এক ওভারে ডাবল উইকেটসহ দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তান ৯৮/২ থেকে ১১৪/৭-এ পৌঁছে যায়। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ২৯ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ক্রিজে ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ।
ম্যাচ তখন নেদারল্যান্ডসের মুঠোয়। কিন্তু ফাহিম আশরাফ অসাধারণ খেলেন। ৭ রানে জীবন পাওয়ার পর ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন (তিনটি ছক্কা ও দুটি চারসহ)। লোগান ভ্যান বীকের ১৯তম ওভারে ২৪ রান তোলেন তিনি। শেষ বলে চার মেরে পাকিস্তানকে জয় এনে দেন ফাহিম।
ম্যাচ শেষে নেদারল্যান্ডসের পেসার পল ফন মিকেরেন হতাশা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- আজ পাকিস্তান ম্যাচ জেতেনি, আমরা নিজেদের বিপক্ষেই হেরে গেছি। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারিনি। বিশ্বকাপের এমন ম্যাচ সূক্ষ্ম ব্যবধানে নির্ধারিত হয়, কখনো একটা বলই পার্থক্য গড়ে দেয়। এখন অনুভূতিটা খুব হতাশার।”
তবে দলের লড়াইয়ের মানসিকতায় গর্বিত ফন মিকেরেন। তিনি যোগ করেন, “ছেলেদের নিয়ে খুব গর্বিত। স্কোরবোর্ডে চাওয়া রান তুলতে না পারলেও, পাকিস্তানের দারুণ শুরুর পর যেভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছি, এটা দেখায় আমাদের দলে হাল ছাড়ার সংস্কৃতি নেই।”
এসটি