স্পোর্টস ডেস্ক
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এই তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার কথা ছিল গত ২০ ডিসেম্বর। তবে নির্ধারিত সময়ের ৪৪ দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি জমা পড়ল। স্বাধীন তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে প্রতিবেদনটি তুলে দেন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি তারিক উল হাকিম। এ সময় কমিটির অন্য সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবির পরিচালক রুবাবা দৌলাও উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক ডা: নাঈমা হক বিদেশে অবস্থান করায় এ সময় থাকতে পারেননি। তবে অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি তারিক উল হাকিম বলেন, ‘কমিটি নির্ধারিত সময়ের মাঝে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান সম্পন্ন করেছে এবং আজ তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে জাহানারা আলম যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর গত নভেম্বরে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তামিম ইকবাল, তাইজুল ইসলামসহ অনেক ক্রিকেটার।
এই ঘটনার পর ৮ নভেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো প্রতিবেদন না আসায় ২ ডিসেম্বর বিসিবি জানায়, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বক্তব্য দিতে জাহানারা আলম বাড়তি সময় চেয়েছেন। ফলে তদন্ত কমিটির সময়সীমা আরও ১৫ কার্যদিবস বাড়িয়ে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, বিসিবির অধীনেই এই তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে? জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল তখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা সরকারি পর্যায়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। তাঁর মতে, তদন্ত কমিটিতে যেন বিসিবির কেউ না থাকেন, যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতের সুযোগ না থাকে।
তামিম স্বাধীন তদন্ত কমিটির পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, ‘কমিটিতে বিসিবি সংশ্লিষ্ট কেউ থাকবেন না, যাতে বিন্দুমাত্র পক্ষপাতের সুযোগ না থাকে। যত দ্রুত সম্ভব এই কমিটি গঠন করা উচিত ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপারটিকে দেখা উচিত। দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে দোষী যে-ই হোক, যার যতটুকু দায় থাকুক, উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
এখন বিসিবিতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটির দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন।