images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বিশ্বকাপে অস্থিরতার জন্য দায়ী ভারত: আইসিসির কর্মকর্তা

স্পোর্টস ডেস্ক

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে এখন ক্রিকেট বিশ্বে বড় তোলপাড় চলছে। এই অস্থিরতার জন্য অনেকেই দায়ী করছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইকে। এবার আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন সামি-উল-হাসান বার্নি সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) কাঠগড়ায় তুলেছেন। তার মতে, বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাই এই সবকিছুর মূল কারণ। বিসিসিআই যদি আরও সতর্ক ও কৌশলী হতো, তাহলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। 

২০২৬ আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় দলে নেয়। এটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের আইপিএলে সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘু (বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর) নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠী প্রতিবাদ শুরু করে। তারা শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআরকে নিশানা করে।

এরপর ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া প্রকাশ্যে বলে দেন যে, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর” কারণে কেকেআরকে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেকেআরও সেই নির্দেশ মেনে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশ তার যৌক্তুক কারণ জানতে চাইলেও তা দিতে ব্যর্থ হয় ভারত। আর যার কারণে নিরপত্তার শঙ্কা চিন্তা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সরকার। 

এই ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) নিরাপত্তার শঙ্কা তুলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে (যেমন শ্রীলঙ্কায়) সরানোর অনুরোধ করে। কিন্তু আলোচনা সফল না হওয়ায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে নেয়।

আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা সামি-উল-হাসান (যিনি পরে পিসিবির মিডিয়া ডিরেক্টরও ছিলেন) পিটিআইকে বলেন, বিসিসিআই প্রকাশ্যে এই ঘোষণা না দিলেই ভালো হতো। তারা চুপচাপ কেকেআরকে বলতে পারতো খেলোয়াড় ছেড়ে দিতে, কেউ জানতেই পারত না। প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। 

তিনি বলেন, “আমি বলতে চাইছি, ক্রিকেট প্রশাসক বা খেলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি আরও একটু সতর্ক থাকতেন এবং বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে (মুস্তাফিজ) ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ দেওয়ার মতো প্রকাশ্য বিবৃতি এড়িয়ে চলতেন, তাহলে (বর্তমান) পরিস্থিতি সহজেই এড়ানো যেত।”

“আমি বলতে চাইছি, তাদের (বিসিসিআই) প্রকাশ্যে এটি বলার দরকার ছিল না। তারা সহজেই একান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে (কলকাতা) বলতে পারত খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়ার কথা এবং কেউ জানতে পারত না কী ঘটেছিল, সবকিছু ঠিকভাবে এগোত। কখনও কখনও আপনি বিচারে ভুল করেন এবং এমন একটি বিবৃতি দেন যার প্রভাব রয়ে যায়। ৩ জানুয়ারির ঘোষণাই আসল আগুন জ্বালিয়েছে।”

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল। (ম্যাচটি কলম্বোয় হওয়ার কথা।) এতে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাকিস্তান টুর্নামেন্টে খেলবে, কিন্তু শুধু ভারত ম্যাচ বয়কট করছে। এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ক্রিকেট আর রাজনীতি কতটা জড়িয়ে গেছে। একটা খেলোয়াড়ের দলছাড়ার ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এখন পুরো বিশ্বকাপের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।

এসটি