স্পোর্টস ডেস্ক
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
এক মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা যে এতদূর গড়াবে, ভারত হয়তো তা কল্পনাও করেনি। ক্রিকেটের মাঠে যেখানে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই সবকিছু, সেখানে রাজনীতির ছায়া পড়ে সবকিছু উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন শুধু ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক রঙ ধারণ করেছে। উপমহাদেশের তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর হয়েছে, আর এর মাঝে ক্রিকেট যেন সমস্যার সূত্রপাত করেছে।
বিশ্বকাপের আগে নানা নাটকীয়তা, প্রতিকূল পরিস্থিতি আর বয়কটের হুমকি- সব মিলিয়ে যেন একটা মেগা সিরিয়াল চলছে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত, পাকিস্তানের ভারতের সঙ্গে ম্যাচ না খেলার ইঙ্গিত- এসবের পর ভারতীয়রা এতদিন চুপ থাকলেও এখন তারাই দিচ্ছেন ঐক্যের ডাক।
ভারতের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ও লোকসভা সদস্য শশি থারুর এই পরিস্থিতিতে বেজায় নাখোশ। তিনি মনে করেন, যেখানে ক্রিকেট দিয়ে রাজনীতির চাল চালা হয়েছে, সেখানে ক্রিকেটই হতে পারত সমাধানের পথ। থারুর বলেছেন, “আমাদের বোঝা উচিৎ, খেলাধুলা বিশেষ করে ক্রিকেট, যেটা কিনা সবার কাছে এত জনপ্রিয়, অন্তত এখানে সবাই এক থাকা উচিত। এভাবে চলতে পারে না।”
তিনি উপমহাদেশের তিন দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন, বিভেদ ভুলে এক হয়ে যাওয়ার জন্য। থারুরের মতে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বোর্ডগুলোকে এগিয়ে এসে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) হতে পারে এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সবাই বসে আলোচনা করতে পারে। তিনি বলেছেন, “সবার এখন একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ঠিক করা উচিত। শুধু বলতে হবে, আসুন এসব আজেবাজে কথা বন্ধ করি। এভাবে আজীবন চলতে পারে না।”
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনাকে থারুর “অযৌক্তিক” ও “অপমানজনক” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ কোনো সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র নয় যে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস পাঠায়। দুই দেশের সম্পর্কের ধরন ভিন্ন, কূটনৈতিক অবস্থা ভিন্ন। তাই একজন খেলোয়াড়কে রাজনৈতিক কারণে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। এতে ক্রিকেটের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, আর দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়।
থারুরের মতে, ক্রিকেটকে রাজনীতির বোঝা বইতে দেওয়া উচিত নয়। খেলোয়াড়দের খেলতে দিতে হবে, রাজনীতির ছায়া থেকে দূরে রেখে। উপমহাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ক্রিকেট অনেকবার শান্তি ও ঐক্যের প্রতীক হয়েছে। এখনও সেই পথে ফিরে যাওয়া সম্ভব, যদি তিন দেশের ক্রিকেট বোর্ড মিলে চেষ্টা করে।
এসটি