images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের পথে বাধা হতে পারে

স্পোর্টস ডেস্ক

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো কেবল ক্রিকেট নয়, ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নেও প্রভাব ফেলতে পারে- এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) মহলে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায়, যখন আইসিসি তাদের গ্রুপ ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ নাকচ করে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শুরু হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়। কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি জানায়, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)–এর নির্দেশেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সংহতির অংশ হিসেবে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে, এমন আলোচনা চলছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহান্তে আসতে পারে।

যদিও বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য রাখার সিদ্ধান্ত আইসিসির, তবে বিসিসিআই আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি না দিতে লবিং করেছে বলে জানা গেছে। আইসিসি নিজেকে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে তুলে ধরলেও অতীতে সম্প্রচার ও আর্থিক কারণে ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে, যেমন ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গায়ানায় ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।

আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে বিসিসিআইয়ের প্রভাবও আলোচনায়। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআই সচিব ছিলেন, আর তাঁর বাবা অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা এর আগে জিওস্টার–এ কর্মরত ছিলেন, যারা ভারতে আইসিসি ইভেন্টের একচ্ছত্র সম্প্রচারস্বত্বধারী।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের জন্য বিব্রতকর হয়ে ওঠেছে। গত মাসে দিল্লিকে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিড দিচ্ছে ভারত, যেখানে কাতার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।

আইওসি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আইসিসির তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। আইওসি সূত্রের ভাষ্য, কোনো দেশ বয়কটের আশঙ্কা থাকলে তাকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া কল্পনাও করা যায় না। অলিম্পিক সনদে স্পষ্ট বলা আছে, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে। রুল ৫০.২–এ গেমস চলাকালে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপ্রকাশও নিষিদ্ধ।

গত অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়া জাকার্তায় বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে আইওসির সঙ্গে তাদের সব ধরনের আলোচনা স্থগিত করা হয়। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিকের দৌড়ে ছিল।

অলিম্পিকে ক্রিকেট ফেরানোর পেছনে আইওসির বড় লক্ষ্য ভারতীয় বাজারকে আকৃষ্ট করা। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস ও ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেট থাকছে। তবে রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলে আইওসি সে পথে হাঁটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে না যাওয়ায় পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। দুই দেশ এখন আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজও খেলে না।

আইওসি সূত্রের মতে, ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিশ্বাসযোগ্য দাবিদার হতে হলে ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।

আরএ