images

স্পোর্টস / ফুটবল

আফকন ফাইনালে বিশৃঙ্খলার দায়ে নিষিদ্ধ সেনেগাল কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক

২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

চলতি মাসে মরক্কোর বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (এএফকন) ফাইনালে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে সেনেগাল কোচ পাপ থিয়াওকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (ক্যাফ)। পাশাপাশি তাকে ১ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ক্যাফ।

ক্যাফ জানায়, জানুয়ারির ১৮ তারিখ রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ‘অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ’ এবং ‘খেলাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন থিয়াও। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় সেনেগাল।

নিয়মিত সময়ের যোগ করা সময়ে মরক্কো পেনাল্টি পাওয়ার পর টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, থিয়াও তার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ইশারা করছেন। বিষয়টি অনেকেই মাঠ ছাড়ার নির্দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার পরপরই সেনেগালের বেশিরভাগ খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান। এ ঘটনায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা সেনেগালের দুই ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে ও ইসমাইলা সারকে রেফারির প্রতি ‘অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের’ দায়ে দুই ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফাইনালে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনকে (এফএসএফ) মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফদের আচরণকে ক্যাফের শৃঙ্খলাবিধির ‘ফেয়ার প্লে, আনুগত্য ও সততার নীতিমালা লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মরক্কোর দিক থেকেও শাস্তি এসেছে। ‘অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের’ দায়ে ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারিকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ১ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমিকে দেওয়া হয়েছে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশনকে (এফআরএমএফ) স্টেডিয়ামের বলবয়দের ‘অনুপযুক্ত আচরণের’ জন্য ২ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভিএআর রিভিউ এলাকায় ঢুকে রেফারির কাজে বাধা দেওয়ায় খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফদের ‘অশোভন আচরণের’ জন্য আরও ১ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। মরক্কান সমর্থকদের লেজার ব্যবহার করে সেনেগালের খেলোয়াড়দের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের মোট জরিমানার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার।

ম্যাচের শেষ ভাগে নাটকীয় মোড় নেয় ফাইনাল। ইসমাইলা সার একটি গোল করলেও হাকিমির ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। এরপর ব্রাহিম দিয়াজ ফাউলের শিকার হলে মরক্কো পেনাল্টি পায়, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। দীর্ঘ বিলম্বের পর দিয়াজের নেওয়া দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দি। অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেইয়ের গোলে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল, যা ছিল তাদের দ্বিতীয় এএফকন শিরোপা। বিতর্কিত পেনাল্টির সময় সেনেগালের কিছু সমর্থক মাঠে বস্তু নিক্ষেপ করেন এবং কয়েকজন সাময়িকভাবে মাঠেও ঢুকে পড়েন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ক্যাফ জানায়, কোচ ও খেলোয়াড়দের এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ক্যাফের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেনেগাল খেলবে গ্রুপ ‘আই’-এ, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, নরওয়ে এবং আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের বিজয়ী দল। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে মরক্কোর প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

২০২৭ এএফকন বাছাইপর্বে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না পাপ থিয়াও। নিষিদ্ধ খেলোয়াড়রা প্রথম দুই বাছাই ম্যাচ মিস করবেন।