স্পোর্টস ডেস্ক
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখাতে আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার কোনো পরিকল্পনা পাকিস্তানের নেই। আইসিসি যদি ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানও করে, তবু বিশ্বকাপে খেলবে পাপকিস্তান।
বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো না হলে পাকিস্তানও কি ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে, এমন প্রশ্নে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রেভস্পোর্টজকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “না, এটি পিসিবির অবস্থান নয়।”
সূত্রটি আরও বলেন, “পাকিস্তানের এমন করার কোনো ভিত্তি নেই। আইসিসি তখনই পিসিবিকে বলবে যে তারা তো আগেই শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ খেলছে। কিছু মানুষ ইস্যুটি উসকে দিতেই এমন কথা ছড়াচ্ছে।”
এর আগে গুঞ্জন ছড়ায় যে, চলমান অচলাবস্থায় কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ জানায়, খেলোয়াড়, স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে। তবে আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে ‘শূন্য থেকে নগণ্য’ ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তারপরও বাংলাদেশ সরকারপ্রণোদিত অবস্থানে অনড় বিসিবি সর্বশেষ আইসিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব তোলে। বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অন্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি, ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের অংশ হিসেবে ভিন্ন গ্রুপে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ গ্রুপ ‘বি’-তে যাবে এবং আয়ারল্যান্ড গ্রুপ ‘সি’-তে আসবে।
গ্রুপ ‘বি’-র ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় হলেও জানা গেছে, আয়ারল্যান্ড আইসিসির কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে যে তাদের গ্রুপ বদলাতে বাধ্য করা হবে না। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে।
আইসিসি সূচি পরিবর্তনে অনাগ্রহী বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত বিসিবির হাতে। ২১ জানুয়ারি দুবাই সময় বিকেল ৫টার মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে আইসিসিকে। বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলে শুধু পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিই নয়, আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে। বিশ্বকাপে না খেললে তা অংশগ্রহণ চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, যা আইসিসির রাজস্ব বণ্টনের সঙ্গেও যুক্ত।