স্পোর্টস ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের কাছে জিনেদিন জিদান শুধু একজন কোচ নন, এক আবেগের নাম। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে রাফায়েল বেনিতেজের অধীনে হতাশাজনক সময়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ফরাসি কিংবদন্তি গড়েছিলেন ইতিহাস- টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি। সম্প্রতি হামিদু মসাইদির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই স্বর্ণালি সময়ের ভিত, চ্যালেঞ্জ আর দর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জিদান।
রিয়াল মাদ্রিদে প্রথম দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মুহূর্তটি স্মরণ করে জিদান বলেন, “এব্রোর বিপক্ষে একটি ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই প্রথম দলের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ আসে। কাস্তিয়ায় শুরু করার সময় স্বপ্ন ছিল একদিন প্রথম দলকে কোচিং করাবো। কিন্তু শুরুতে তিনটি ম্যাচ হারার পর মনে হয়েছিল, সবকিছু এখানেই শেষ। এরপর আমাদের দিন শুরু হতো সকাল ৯টায়, শেষ হতো রাত ১১টায়। আমি জানতাম কীসের মধ্যে ঢুকছি। আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা দল ছিল। খেলোয়াড়দের দেখে বুঝেছিলাম, ঠিকভাবে কাজ করলে বড় কিছু সম্ভব- আর সেটাই হয়েছে। আমরা চাইনি ট্রেনিং একঘেয়ে হোক।”
জিদানের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় পরিস্থিতি বাইরে থেকে যতটা ভালো দেখাত, বাস্তবে তা ছিল অনেক বেশি নাজুক। “আমরা এসেছিলাম এক সংকটময় সময়ে। দল শারীরিকভাবে ভালো অবস্থায় ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা। তখন শুধু লিগ ছিল, সপ্তাহজুড়ে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি চার অধিনায়কের সঙ্গে বসে স্পষ্ট করে বলেছিলাম, আমি কী চাই এবং তারা সত্যিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কি না তা দেখব। তারা রাজি হওয়ার পরই আনন্দ ফিরে আসে। আমরা তাদের প্রেরণা ফিরিয়ে দিয়েছি। কাজ আর আনন্দ- এই দুটোই ছিল মূল চাবিকাঠি। শারীরিক অনুশীলন ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্রেসিংরুমের সঙ্গে সম্পর্ককেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মনে করেন জিদান। “রিয়াল মাদ্রিদে আমরা ছিলাম খেলোয়াড়দের সেবায়। আমার কাছে এটাই দলকে শক্তিশালী করে। এটা না বুঝলে এই পেশায় টিকে থাকা যায় না। কোচ হিসেবে আপনাকে দেখাতে হবে, আপনি খেলোয়াড়দের পাশে আছেন। ড্রেসিংরুম যদি আপনার পরিকল্পনা গ্রহণ না করে, যদি অনুশীলন বা কাজ উপভোগ না করে- তাহলে কোথাও না কোথাও ঘাটতি থেকে যাবে। আমাদের সময়ে খেলোয়াড়রা সব দিক থেকেই উপভোগ করেছিল বলে আমি বিশ্বাস করি।”
জিদান মনে করেন, কৌশল বা ফিটনেসের মতোই আত্মবিশ্বাস ফেরানো ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “আমরা খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচুর আত্মবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। তারা খারাপ সময় পার করছিল, আত্মবিশ্বাস, ফিটনেস সবই হারিয়ে ফেলেছিল। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছি, যাতে তারা সবকিছু ফিরে পায়। যখন একজন খেলোয়াড় প্রতিযোগিতামুখর থাকে, অনুশীলন উপভোগ করে, মাঠে নামতে আনন্দ পায়- তখনই তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা সম্ভব। আমরা সত্যিই দারুণ সময় কাটিয়েছি।”
এই কথাগুলোই যেন ব্যাখ্যা করে দেয়, কেন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ শুধু ট্রফির হিসাবেই নয়, মানসিক শক্তি আর ড্রেসিংরুমের ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।