images

স্পোর্টস / ফুটবল

ব্রাইটনের কাছে হেরে এফএ কাপ থেকে ম্যানইউর বিদায়

স্পোর্টস ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এফএ কাপ অভিযান থেমে গেল তৃতীয় রাউন্ডেই। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের কাছে ২–১ গোলে হেরে হতাশায় ডুবল রেড ডেভিলসরা। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো শুরুতেই কোনো ঘরোয়া কাপ থেকে ছিটকে গেল ইউনাইটেড, ফলে মে মাসের আগে কোনো ট্রফির বাস্তব সম্ভাবনাও থাকল না।

ফাবিয়ান হুরজেলারের নেতৃত্বে ব্রাইটন একাধিক নিয়মিত খেলোয়াড় ছাড়াই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নামলেও ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও কোচিং অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগাতে ভুল করেনি। সাবেক ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড ড্যানি ওয়েলবেক ফিরেই পুরোনো ক্লাবকে ভোগালেন, ব্রাইটনের দুই গোলেই তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।

অন্তর্বর্তী কোচ ড্যারেন ফ্লেচার পরিচিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামান ইউনাইটেডকে। মৌসুমে বিরল সুযোগ পাওয়া একাডেমি গ্র্যাজুয়েট কোবি মাইনু ছিলেন শুরুর একাদশে। রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে দায়িত্বে থাকা ফ্লেচার বার্নলির বিপক্ষে ২–২ ড্রয়ের পর ইতিবাচক সাড়া আশা করেছিলেন। ইউনাইটেডের একাদশে ছিলেন গোলকিপার ল্যামেন্স; রক্ষণে ইয়োরো, মার্তিনেজ, দালত ও ডর্গু; মিডফিল্ডে উগার্তে ও মাইনু; আক্রমণে মাউন্ট, কুনিয়া, ফার্নান্দেজ ও সেস্কো।

ব্রাইটন দলে ইনজুরি ও অনুপস্থিতির কারণে বেশ কিছু পরিবর্তন ছিল। তবু শুরু থেকেই তারা কার্যকর ছিল। ম্যাচের ১২ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মাউন্টকে কাটিয়ে নিখুঁত ক্রস দেন ওয়েলবেক। রক্ষণ সামলাতে ব্যর্থ ইউনাইটেডের বিপদ বাড়ে, মার্তিনেজের ব্লকে বল ফিরে এলে কাছ থেকে জোরালো শটে গোল করেন ব্রায়ান গ্রুডা, ব্রাইটন পায় লিড।

এরপর বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ইউনাইটেড তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ডান দিক দিয়ে দালতের কয়েকটি চেষ্টা ছাড়া উল্লেখযোগ্য সুযোগ ছিল না। মাইনু মাঝমাঠে কিছু ভালো টাচ ও বল ধরে রাখলেও ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেননি।

বিরতির পর ৬২ মিনিটে ফ্লেচার মাউন্ট ও মাইনুকে তুলে শিয়া লেসি ও জশুয়া জির্কজিকে নামান। আক্রমণে গতি বাড়লেও ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে ইউনাইটেড। এবার গ্রুডার পাস থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শটে গোল করেন ওয়েলবেক, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাবেক প্রিয় মুখের উৎসব।

শেষ দিকে ৮৪ মিনিটে কর্নার থেকে বেনিয়ামিন সেস্কোর হেডে ইউনাইটেড একটি গোল শোধ দেয়। মুহূর্তের জন্য আশা জাগলেও যোগ করা সময়ে বদলি লেসি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। দশ জনের ইউনাইটেড আর ফিরতে পারেনি, ২–১ জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ব্রাইটন।

এই হার মানে ১৯৮১–৮২ মৌসুমের পর প্রথমবার দুই ঘরোয়া কাপ থেকেই প্রথম ধাপে বিদায় ইউনাইটেডের। ইউরোপিয়ান ফুটবল না থাকায় এ মৌসুমে তাদের ম্যাচসংখ্যা দাঁড়াবে ৪০, ১৯১৪–১৫ মৌসুমের পর সর্বনিম্ন। ফলে আর্থিক ক্ষতিও যোগ হচ্ছে মাঠের হতাশার সঙ্গে।

ম্যাচ শেষে ফ্লেচার বলেন, “এটা এফএ কাপ, আমরা খুব হতাশ। প্রথম গোলের পর সাড়া দিতে দেরি হয়েছে। খেলোয়াড়রা কষ্টে আছে। তবে লড়াই শেষ হয়নি, চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্যতা অর্জনের সামর্থ্য এই দলে আছে। দ্রুত উন্নতি করতে হবে।”

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্থায়ী কোচ নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মাইকেল ক্যারিক ও ওলে গুনার সোলশায়ারের নাম শোনা যাচ্ছে। ফ্লেচারের সংক্ষিপ্ত অধ্যায়ে ফল, এক ড্র, এক হার- চাপ বাড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষের ওপর।