স্পোর্টস ডেস্ক
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অনীহা দূর করতে রোববার বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। বরোদায় ভারত–নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডের ফাঁকে এই বৈঠক হবে। বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ আমন্ত্রণে শহরটিতে অবস্থান করছেন তিনি।
যেটি শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ হিসেবে, সেটিই ধীরে ধীরে সংবেদনশীল এক অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। প্রথম চিঠিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে ম্যাচের ভেন্যু ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার নামও প্রস্তাব করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে একাধিকবার আইসিসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেন ভারত নয়, শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি এখন ‘জাতীয় মর্যাদার’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এ পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রথম ধাপে জয় শাহ বিসিসিআই ও আইসিসির অপারেশনস টিমের সঙ্গে বসে টুর্নামেন্ট ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করবেন। কোথায় বাংলাদেশ নিজেদের অবহেলিত মনে করছে, কিংবা আইসিসির আগের বার্তাগুলো কি খুব বেশি আনুষ্ঠানিক ছিল- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শুধু নথি পর্যালোচনায় সমাধান আসবে না। আসল চ্যালেঞ্জ হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় এমন একটি পথ বের করা, যাতে তারা চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে না মনে করে। পরিষ্কার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, স্বচ্ছ যোগাযোগ বা ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত কিছু নমনীয়তা- এগুলোর মধ্য দিয়েই সমাধান খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের কাঠামোও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক। তারা টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের বাদ দেওয়া মানে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় জড়িয়ে পড়া। আইসিসি বোর্ডে ভোটাভুটির প্রয়োজন হতে পারে, যা আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল- দুই জায়গাতেই অস্থিরতা তৈরি করবে। ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্যও এটি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।