স্পোর্টস ডেস্ক
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৪ এএম
ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না কার্লো আনচেলত্তির জন্য। দরিভাল জুনিয়রের বিদায়ের পর সংকটের মুহূর্তে তাকে কোচ করে আনা হয়। প্রথম লক্ষ্য ছিল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপের মূলপর্বে তোলা, সেটা সফলভাবে করেছেন তিনি। এখন তার মূল ফোকাস দল গোছানো এবং সবচেয়ে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল তৈরি করা। আর এই জায়গাতেই বড় প্রশ্ন দল কি পাবে নেইমারকে?
নেইমারকে নিয়ে আলোচনা ব্রাজিল ফুটবলে কখনোই থেমে থাকে না। দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও গত দুই বছর চোট তাকে মাঠের বাইরে রেখেছে জাতীয় দল থেকে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে ছিল তার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর পর থেকে বারবার চোট তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি বাঁ হাঁটুর মেনিসকাস সমস্যায় ভুগছেন এবং বছরের শেষে তার আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি লাগতে পারে। দুই বছর আগে একই হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ায় বড় অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।
এমন অবস্থায় নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হবে কিনা, সেটিই এখন সবচেয়ে আলোচনার বিষয়। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম এস্পোর্তে রেকর্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি আবারও দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে বলেন, “শতভাগ ফিট খেলোয়াড়রাই দলে জায়গা পাবে। শুধু নেইমার নয়, এটা সবার জন্যই একই নিয়ম। যদি ভিনিসিয়ুস ৯০ শতাংশ ফিট থাকে আর অন্য কেউ ১০০ শতাংশ ফিট থাকে, আমি ১০০ শতাংশ ফিট খেলোয়াড়কেই নেব। কারণ ব্রাজিলে প্রতিভার কোনো কমতি নেই।”
নেইমারের প্রতি তার সম্মান ও ভালোবাসা থাকলেও কোচ হিসেবে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই নিতে হবে বলে জানান আনচেলত্তি। তিনি আরও বলেন,“নেইমার অসাধারণ প্রতিভা। দুর্ভাগ্য হলো, চোট তাকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। শারীরিকভাবে কখনোই সে পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারেনি, আর সেটাই তার সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য।”
চোট–আঘাতের মধ্যে থেকেও থেমে নেই নেইমার। শুক্রবার ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে নেমে দারুণ একটি গোলও করেছেন তিনি। তার গোলের উপর ভর করেই স্পোর্টের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে এসেছে সান্তোস। লিগে তাদের এখনো দুটি ম্যাচ বাকি।
ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন,“ধীরে ধীরে আমি ভালো অনুভব করছি। এই চোটটা বিরক্তিকর, কিন্তু আমাকে থামাতে পারবে না। এখন সব মনোযোগ সান্তোসকে প্রথম বিভাগে রাখা। এরপর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো।”
এ বছর জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। আগামী বছর তার লক্ষ্য স্পষ্ট, জীবনের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে চান তিনি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে তার ফিটনেস এবং আনচেলত্তির কঠিন সিদ্ধান্তের ওপর। নেইমার কি পারবেন ফিরতে? আনচেলত্তি কি রাখবেন তাকে বিশ্বকাপ দলে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন ফুটবল বিশ্ব অধীর অপেক্ষায় দেখছে।