স্পোর্টস ডেস্ক
০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৬ পিএম
এই মৌসুমে দীর্ঘ সময় ধরে আর্সেনাল ছিল একেবারে অপ্রতিরোধ্য। টানা ১০ ম্যাচ জয়ের পর শনিবার তারা নামল সান্ডারল্যান্ডের মাঠে, লক্ষ্য ছিল একাদশ জয়ের পাশাপাশি টানা নবম ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখার ক্লাব রেকর্ড গড়া। দিন শেষে জয় হলে শীর্ষে থাকা দলটি পেত ৮ পয়েন্টের ব্যবধান। কিন্তু স্টেডিয়াম অব লাইটে মুখোমুখি হওয়া সান্ডারল্যান্ড ভিন্ন কিছু ভাবছিল। আর্সেনালের ছন্দ ভাঙতে তারা এসেছিল ‘গেম প্ল্যান’ নিয়েই।
লিগে ফিরে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছে রেজিস লে ব্রিসের সান্ডারল্যান্ড। মৌসুম শুরুর আগে যাদের ধরা হয়েছিল অবনমন প্রার্থী হিসেবে, তারাই এখন শীর্ষ চারে জায়গা ধরে রেখেছে। শনিবার তারা আবারও প্রমাণ করল নিজেদের সামর্থ্য। শীর্ষ দল আর্সেনালকে ২-২ গোলে আটকে রেখে শুধু নিজেদের মাঠ নয়, পুরো ওয়ারসাইডে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে।
ড্যান ব্যালার্ডের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় সান্ডারল্যান্ড, যা ছিল সেপ্টেম্বরের পর আর্সেনালের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের প্রথম গোল। পরে দ্বিতীয়ার্ধে দুইবার জাল খুঁজে ২-১ এ এগিয়ে যায় আর্সেনাল, কিন্তু ইনজুরি টাইমে ব্রায়ান ব্রবির অ্যাক্রোবেটিক গোল সবকিছু ওলট-পালট করে দেয়। শেষ মুহূর্তের সেই সমতায় মাঠ ও গ্যালারি দুটোই ফেটে পড়ে উল্লাসে।
সান্ডারল্যান্ডের জয় মানে শুধু স্কোরলাইনের সমতা নয়, বরং বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনার সাফল্য। শুধু প্রিমিয়ার লিগে নয়, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগীতায়ও সেট কাজে লাগাতে ওস্তাদ আর্সেনাল। থ্রো ইন, কর্ণার বাঁ ফ্রি কিক থেকে গোল করতে পটু গানাররা। মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের এই শক্তির জায়গাতেই তাই আঘাত করেছে সান্ডারল্যান্ড।

আর্সেনাল যেন সেট পিস থেকে সুবিধা নিতে না পারে তাই তাদের শক্তিশালী থ্রো-ইন ও সেট পিস সামলাতে তারা এমনকি মাঠের চারপাশের বিজ্ঞাপন বোর্ডও সরিয়ে এনে জায়গা কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে মাঠের দুই পাশে টাচলাইন থেকে বিজ্ঞাপন বোর্ডের মাঝের দূরত্ব করে দাঁড়িয়েছিল ২ মিটারে। ফলে ঠিকমত সেট পিস কাজে লাগাতে পারেনি গানাররা।
ম্যাচের পর কোচ রেজিস লে ব্রিস বললেন, “আমরা জেতার জন্য ছোট ছোট জায়গায় কৌশল খুঁজে নিয়েছিলাম। আর্সেনাল সেট পিসে দারুণ শক্তিশালী, আমরা জানতাম এটা সামলানোই মূল চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা সমান ছিল।” একটা সময় আর্সেনালের খেলা মানেই ছিল চোখ ধাঁধানো আক্রমণাত্মক ফুটবল। এবার তারা একটু ভিন্ন পথে- বেশি ডিরেক্ট ফুটবল, বেশি সেট পিস নির্ভর খেলা। কিন্তু সেই খেলা ভেঙে দিতে সান্ডারল্যান্ড শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক।

প্রাক্তন গানার তারকা গ্রানিত জাকার নেতৃত্বে সান্ডারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ছিলেন সাহসী, শক্ত ট্যাকলে প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন বারবার। প্রথমার্ধে ব্যালার্ডের গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল হজম করে ২-১ এ পিছিয়ে পড়ে সান্ডারল্যান্ড। কিন্তু হাল না ছেড়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার আশায়। আর ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে ব্রায়ান ব্রবি এক দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে সেই আশার প্রতিদান দেন।
এই মৌসুমে এটা সান্ডারল্যান্ডের ৯০ মিনিটের পরে পঞ্চম গোল, যা লিগে অন্য সবার চেয়ে বেশি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এই মানসিকতাই যেন তাদের আলাদা করে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বললেন, “আমরা এমনভাবেই গোল খেলাম, যেমনটা জানতাম তারা করতে পারে। ওরা এই বিশৃঙ্খল স্টাইলে দারুণ কার্যকর।
“এরপর আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, দুটি গোল করেছিলাম, ম্যাচটাও নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু যেকোনো সময়, একটা ফাউল বা লং থ্রো থেকেই ওরা আবার বিশৃঙ্খলা তৈরি করে দিতে পারে।” শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে, আর্সেনালের ধারাবাহিকতা থেমেছে, আর সান্ডারল্যান্ড আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের ‘অবনমন প্রার্থী’ ভাবা বড় ভুল ছিল।