স্পোর্টস ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:১৮ পিএম
২০২৫ এশিয়া কাপ মাঠে গড়াতে আর মাত্র কয়েকদিন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উত্তেজনাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। যেখানে আটটি দল প্রতিযোগিতা করবে। বাংলাদেশ গ্রুপ বি-তে রয়েছে হংকং, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে। ১১ সেপ্টেম্বর হংকং-এর বিপক্ষে শুরু হবে টাইগারদের অভিযান। এরপর ১৩ তারিখে শ্রীলঙ্কা এবং ১৬ তারিখে আফগানিস্তান। এই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সুপার ফোরে যাবে, যা টুর্নামেন্টের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি ১৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন লিটন দাস। এই স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা এবং যুবশক্তির মিশ্রণ রয়েছে। কিন্তু টুর্নামেন্টে সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকজন খেলোয়াড়ের 'এক্স-ফ্যাক্টর' উপর। যারা অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন। বাংলাদেশ তিনবার (২০১২, ২০১৬, ২০১৮) এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে কিন্তু কখনো জিততে পারেনি। এবার টাইগাররা কি চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ নেবে? চলুন বিশ্লেষণ করি পাঁচজন সম্ভাব্য এক্স-ফ্যাক্টর খেলোয়াড়ের, যারা আমিরাতে স্পিন-ফ্রেন্ডলি পিচে বাংলাদেশের ভাগ্য গড়ে তুলতে পারেন।
যুবক ওপেনার তানজিদ হাসান টাইগারদের ব্যাটিংয়ের নতুন দিগন্ত। তার আক্রমণাত্মক স্টাইল এবং পাওয়ারপ্লে-তে সিক্স হিটিং ক্ষমতা তাকে এক্স-ফ্যাক্টর করে। ইমার্জিং এশিয়া কাপে তার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে যে তিনি প্রথম ৬ ওভারে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারেন। হংকং-এর মতো দুর্বল বোলিংয়ের বিপক্ষে তার স্টার্ট গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শ্রীলঙ্কার স্লোয়ারদের মোকাবিলায় তার অভিযোজন ক্ষমতা পরীক্ষা হবে। যদি তিনি প্রতি ইনিংসে ৩০+ রান করে, তাহলে বাংলাদেশের মোট স্কোর ১৬০+ হবে, যা সুপার ফোরের টিকিট নিশ্চিত করবে। তার অভিজ্ঞতার অভাব চ্যালেঞ্জ, কিন্তু ফর্মে থাকলে তিনি টুর্নামেন্টের স্টার হয়ে উঠবেন।

এ বছরে ১১ ম্যাচে ৩১ গড়ে করেছেন ৩১০ রান। ১৫০.৪৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। তাঁর আগ্রাসী ব্যটিংয়ের নিদর্শন তাই তো এশিয়া কাপে হতে পারে বাংলাদেশের এক্স ফ্যাক্টর।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্যাপ্টেন, এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে তার নেতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে লিটনের স্ট্রাইক রেট ১৩০-এর উপরে, এবং তিনি মিডল অর্ডারে গেম-চেঞ্জার। আমিরাতের পিচে তার আক্রমণাত্মক স্টাইল (যেমন ২০২২ টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতের বিপক্ষে অর্ধশতক) বাংলাদেশকে দ্রুত স্কোর তৈরি করতে সাহায্য করবে। যদি লিটন প্রথম দুটি ম্যাচে ৫০+ রান করে এবং টিমকে সুপার ফোরে নিয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। তার অনুপস্থিতিতে টিমের মনোবল ভেঙে পড়ে, তাই তার ফর্মই গ্রুপ স্টেজের চাবিকাঠি।

লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন বর্তমানে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের মূল চাবিকাঠি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুষ্ক পিচে তার গুগলি এবং ফ্লিপার বিপক্ষী ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ৩ উইকেট নেওয়া দেখিয়েছে তার সম্ভাবনা। আফগানিস্তানের রশিদ খান বা শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের মোকাবিলায় রিশাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যদি তিনি ম্যাচে ২-৩ উইকেট নেন এবং ইকোনমি রাখেন ৬-এর নিচে, তাহলে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। তার অসামঞ্জস্যতা টিমের দুর্বলতা বাড়াতে পারে, কিন্তু ফর্মে থাকলে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা বোলার হয়ে উঠতে পারেন।

জাকের আলি অনিক মিডল অর্ডারে একজন শক্তিশালী ফিনিশার। তার স্ট্রাইক রেট ১৪৫-এর উপরে, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স (৩২ ধাপ র্যাঙ্কিং উন্নতি) দেখিয়েছে যে তিনি প্রেশারে শান্ত থেকে বড় শট খেলতে পারেন। ইউএই-এর স্পিন-ফ্রেন্ডলি পিচে তার সুইপ এবং লফটেড কভার ড্রাইভ স্পিনারদের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে। এছাড়া ডেথ ওভারে বিস্ফোরক ব্যাটিং জাকেরের, ১৬-২০ ওভারে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা বাংলাদেশকে ১৫০+ স্কোরে পৌঁছে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ডোমেস্টিক লিগে (বিপিএল ২০২৪) তিনি ১৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, যা তার ফিনিশিং দক্ষতার প্রমাণ। শ্রীলঙ্কা বা আফগানিস্তানের মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে এই ক্ষমতা ম্যাচ জেতাতে পারে।

'কাটার' মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের পেস আক্রমণের হৃদয়। তার ইয়র্কার এবং স্লো-বল ভ্যারিয়েশন ইউএই-এর পিচে মারাত্মক হবে। এশিয়া কাপে তার অভিজ্ঞতা (২০১৮ ফাইনালে তার পারফরম্যান্স) তাকে এক্স-ফ্যাক্টর করে তোলে। আফগানিস্তানের মতো স্পিন-হেভি টিমের বিপক্ষে তার পেস ব্যালেন্স প্রয়োজন। যদি তিনি ডেথ ওভারে ১০ রানের মধ্যে ২ উইকেট নেন, তাহলে বিপক্ষী টিমগুলোর চেজিং স্বপ্ন ভেঙে যাবে। তার ফিটনেস সমস্যা দূর হলে, তিনি বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেন, যেমন ২০১৬-এ করেছিলেন।