স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৮ এএম
আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে হবে হকি এশিয়া কাপ। আর শেষ মুহূর্তে এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিএইচএফ টুর্নামেন্টের আয়োজকদের কাছে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এবং এশিয়ান হকি ফেডারেশনকে টুর্নামেন্টটি নিরপেক্ষ কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত সরকার পাকিস্তান দলের জন্য ভিসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাদের দল পাঠানোর অনুমতি বাতিল করে। শুধু এশিয়া কাপ নয়, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণও এখন অনিশ্চিত।
ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই সিদ্ধান্ত আসায় টুর্নামেন্টের আয়োজকরা এখন পাকিস্তানের পরিবর্তে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এশিয়া কাপটি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফায়ার হিসেবেও কাজ করবে, তাই পাকিস্তানের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্কের কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি আগেও ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৬ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তান দল নিরাপত্তাজনিত কারণে অংশ নিতে পারেনি, যার ফলে ভারত জয়ী হয়। তবে গত বছর ২০২৩ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তান দল চেন্নাইয়ে অংশ নিয়ে ষষ্ঠ দল হিসেবে শেষ করেছিল।
এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জুনিয়র বিশ্বকাপ (নভেম্বর-ডিসেম্বর, ২০২৫) অংশগ্রহণকেও অন্ধকারে ফেলেছে, যেখানে ভারতের শহর চেন্নাই ও মাদুরাই আয়োজক। বিশেষ করে, পাকিস্তান সরকারের একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, ভারতের জন্য কোনো আমন্ত্রণ তারা নিজস্ব অনুমোদন ছাড়াই গ্রহণ করবে না, যা এই বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পিএইচএফ এখনো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে তারা আগেই জানিয়েছিল, দল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার। এশিয়া কাপে না খেলার পর পাকিস্তান এখন এফআইএইচ হকি প্রো লিগে অংশগ্রহণের দিকে মনোযোগ দেবে।
পাকিস্তান হকির ইতিহাস গৌরবময়। তারা অলিম্পিক, বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে একসময় দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তাদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের এশিয়া কাপ থেকে সরে দাঁড়ানো কেবল পাকিস্তানের জন্যই নয়, হকি প্রেমীদের জন্যও হতাশার। এই ঘটনা ক্রীড়ার মাঠে রাজনীতির প্রভাব আরেকবার তুলে ধরল।