স্পোর্টস ডেস্ক
২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৪২ এএম
পেলে নামটি শোনেননি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নিজের দেশ ব্রাজিল তো বটেই, এমনকি লাতিন আমেরিকা ছাপিয়ে ফুটবলকে যিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সারা পৃথিবীর সঙ্গে। বিশ্ব ফুটবলের এই অমর কিংবদন্তি গত বছর এই দিনেই অগণিত ভক্ত-সমর্থককে কাঁদিয়ে চলে যান পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে।
পেলে আর নেই, তবে রয়ে গেছে তার সুদীর্ঘ সাফল্যের তালিকা। যে সাফল্যগাথা আজীবন লেখা থাকবে বিশ্ব ফুটবলের সোনালী ডায়েরিতে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের জার্সিতে ফুটবল মাঠে আসা পেলের।
এরপর থেকেই একের পর এক সাফল্য তাকে পরিপূর্ন করে তোলে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হতে থাকে পুরো ফুটবল বিশ্ব। ক্লাব থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল, সর্বত্রই নিজ গুনে দ্যুতি ছড়িয়ে ক্যারিয়ারকে করেছিলেন সমৃদ্ধ।
অন্তিম যাত্রায় ফুটবল সম্রাট
ঐতিহাসিক মারাকানায় ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় স্বাগতিক ব্রাজিল। শিরোপা লড়াইয়ের সেই ম্যাচে সেলেসাওদের হার দেখে কেঁদেছিলেন পেলের বাবা। বাবার কান্না দেখে পেলে বলেছিলেন, ‘বাবা কেঁদো না, দেখো একদিন ওই বিশ্বকাপটা ঠিকই এনে দেব আমি।’
মাত্র ১০ বছর বয়সী পেলে এভাবেই বাবাকে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন শিরোপা আনার। সেই কথা তিনি রেখেছেনও। একটি নয়, সেলেসাওদের তিন তিনটি শিরোপা এনে দেন ফুটবলের এই সম্রাট।
ব্রাজিলের সাও পাওলোর এক বস্তিতে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের অভাব অনটন মেটানোর জন্য ছোটবেলা থেকেই চায়ের দোকানে কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে রেলস্টেশনে ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি কিছুদিন জুতা পরিষ্কারের কাজও করেছিলেন। ফুটবল কেনার টাকা ছিল না বলে মোজার ভেতরে কাগজ ঢুকিয়ে বানানো ফুটবল দিয়ে করতেন অনুশীলন। এরপর তার জাদুকরি ছন্দে মুগ্ধ হয়ে ব্রাজিল সরকার তাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।

ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিষেক হয় পেলের। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে তিনি মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আপন রঙে। ক্লাব ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় কেটেছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোস এফসিতে। যে ক্লাবের হয়ে নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন ছয়শর বেশি গোল। তাছাড়াও মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতেন এই ফুটবল সম্রাট। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের সেমিতে হ্যাটট্রিক ও ফাইনালে জোড়া গোল করে শিরোপা উঁচু করে ধরেন পেলে।

অমিত প্রতিভা এবং অসংখ্য সাফল্যের কারণেই ফুটবল সম্রাট হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন পেলে। আর তাই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও এখনো ফুটবল বিশ্বে সমান ভাবেই প্রাসঙ্গিক ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি। বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে তিনি আজীবন থাকবেন ফুটবল সম্রাট হিসেবেই।