নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশ থেকে স্থান পেয়েছেন ৩৪৭ গবেষক। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত তালিকায় দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এ তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
এবারের তালিকায় বাংলাদেশের ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৮৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন, যা ২১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি।
গবেষকের সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। গত বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকেরা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। চলতি বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠানসংখ্যা বেড়েছে ১৪টি বা ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের অবস্থান দেশের গবেষণা খাতের অগ্রগতির একটি চিত্র তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশি গবেষকদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মির্জা হাসানউজ্জামান। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ১ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ৩৭৯। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র উদ্ভিদ জীববিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুনতাসির মুর্শেদ। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ২ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ৯৫৭। পরিবেশ বিজ্ঞান তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মো. তৌফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৩ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ৫ হাজার ৪৯৭। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র মেডিসিনাল ও বায়োমলিকুলার রসায়ন।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৪ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ৭ হাজার ৮৮৫। তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র ফলিত পদার্থবিজ্ঞান।
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষক এম. খালিদ হোসেন। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৫ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ৮ হাজার ৯৫। ফলিত পদার্থবিজ্ঞান তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র।
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৬ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ১৩ হাজার ৪৫৯। তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র পরিবেশ বিজ্ঞান।
সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মো. রবিউল ইসলাম। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৭ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ১৪ হাজার ৩২৭। তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র অনকোলজি ও কার্সিনোজেনেসিস।
অষ্টম অবস্থানে রয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৮ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ১৫ হাজার ৮৫৯। তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র শক্তি বা এনার্জি।
নবম অবস্থানে রয়েছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ গোলাম রসূল। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ৯ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ১৬ হাজার ৪১৮। তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র শক্তি বা এনার্জি।
দশম অবস্থানে রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক গোলাম রসূল। বাংলাদেশে তাঁর র্যাঙ্ক ১০ এবং বিশ্ব র্যাঙ্ক ১৬ হাজার ৭৩২। তাঁর গবেষণার উপ-ক্ষেত্র এগ্রোনমি ও কৃষি।
এম/এসআই