বিজ্ঞান ডেস্ক
০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১০ এএম
সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারের খবর মানেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গবেষণাগারের চেনা দৃশ্য। সাদা পোশাক আর মুখে মাস্ক পরে একদল বিজ্ঞানী ইলেকট্রন মাইক্রোস্ক্রোপের তলায় নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে ল্যাবে সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাসের জিনোম নকশা তৈরি করেছেন গবেষকরা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
কীভাবে তৈরি হলো এই ভাইরাস
গবেষকরা ইভো ওয়ান এবং ইভো টু নামের দুইটি অত্যাধুনিক এআই মডেল ব্যবহার করেছেন। এই মডেলগুলো অনেকটা চ্যাটজিপিটির মতো কাজ করলেও শব্দের পরিবর্তে এআই জিন বিশ্লেষণ করে ডিএনএ সংক্রান্ত ডেটাবেস তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা এআই-কে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের বিপুল সংখ্যক জিনগত তথ্য দিয়ে কমান্ড দিয়েছিলেন। এর ভিত্তিতে এআই এমন একটি জিনোম তৈরি করে, যা আগে প্রকৃতিতে ছিল না।
আরও পড়ুন: বৃষ্টির পানিতে কী কী উপাদান থাকে?
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই জানিয়েছেন, প্রথমবার এআই একটি কার্যকর ভাইরাসের জিনোম তৈরি করেছে। প্রাথমিক ধাবে তিনশোর বেশি সম্ভাব্য ভাইরাসের নমুনা তৈরি করা হলেও এর মধ্যে ষোলোটি ভাইরাস সফলভাবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পেরেছে।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় প্রচলিত ওষুধে অনেক সংক্রমণ কমছে না। এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে এআই-নির্মিত এই ব্যাকটেরিওফাজ। একে ফাজ থেরাপি বলা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট ভাইরাস ব্যবহার করে মানবদেহের ক্ষতি না করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা হয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন ওষুধ এবং জিন থেরাপি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
নতুন গবেষণা কি বিপদের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে
সাফল্যের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর বা প্রাণঘাতী ভাইরাসও তৈরি হতে পারে। তাই জৈব নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। তবে স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবিষ্কৃত এই ভাইরাসগুলো মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না এবং শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। পুরো গবেষণাটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন ল্যাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এখন শুধু লেখা বা ছবি তৈরি করছে না, বরং জীববিজ্ঞানের নানা নকশাও তৈরি করতে শুরু করেছে। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণ, জিনগত রোগ এবং ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এই শক্তিশালী প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
এজেড