বিজ্ঞান ডেস্ক
০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২২ পিএম
বর্ষাকাল এলেও গরমের দাপট কমছে না। এখনও বাড়ির ছাদ প্রচণ্ড গরম হয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ঘরের ভেতরেও। ফলে এসি (এয়ার কন্ডিশনার) চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হতে সময় লাগছে। অনেকেই তখন এসির তাপমাত্রা অনেক কমিয়ে দীর্ঘক্ষণ চালিয়ে রাখেন। তবুও ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় না। অনেকে এটিকে শুধুই অতিরিক্ত গরমের প্রভাব ভেবে এসি আরও কম তাপমাত্রায় চালান। এতে ঘর ঠান্ডা হলেও বিদ্যুতের বিল অনেক বেড়ে যায়।
আসলে সমস্যা এসিতে নয়। আসল সমস্যা আপনার মাথার উপরের ছাদটিতে। সারাদিন সূর্যের তাপে ছাদ উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং সেই তাপ ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে ২০১৯ সালে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করে একটি বিশেষ গবেষণা করা হয়েছিল। সেই গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রযুক্তি ঘরের তাপমাত্রা কমাতে বেশ কার্যকর।

২০১৯ সালে গবেষক স্টেফানো ফানতুচি এবং ভ্যালেন্তিনা সেরা একটি গবেষণা করেন। তারা পরীক্ষা করে দেখেন, বাড়ির ঢালু ছাদের নিচে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি পাতলা স্তর লাগালে তা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করা তাপ আটকাতে পারে কি না।
‘এনার্জি অ্যান্ড বিল্ডিংস’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রিকায় এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এই বিশেষ ফয়েল ব্যবহারের ফলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করা তাপ ১০% থেকে ৫৩% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে এটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।

এটি রান্নাঘরে খাবার মুড়ে রাখার সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল নয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের উপাদান, যা কম তাপ শোষণ প্রযুক্তির উপর কাজ করে। সাধারণত ছাদ তৈরিতে ব্যবহৃত সিমেন্ট বা কংক্রিট সূর্যের তাপ শোষণ করে এবং পরে ধীরে ধীরে সেই তাপ ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে দেয়। অনেকটা ওভেনে ধীরে ধীরে খাবার গরম হওয়ার মতো। কিন্তু এই চকচকে রিফ্লেক্টিভ ফয়েল ঠিক উল্টো কাজ করে। এটি তাপ শোষণ না করে সূর্যের তাপের বেশিরভাগ অংশ বাইরে প্রতিফলিত করে দেয়।

আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিকে তাপ প্রতিরোধক স্তর বলা হয়। তবে এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে হলে ফয়েলের চকচকে অংশের সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা বা বাতাসের স্তর থাকতে হবে। যদি এটি কোনো পৃষ্ঠের সঙ্গে একেবারে লেগে লাগানো হয়, তাহলে এর কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।
গবেষকরা ইতালির তুরিন শহরের একটি বাড়ির ছাদের নিচের ঘরে এই পরীক্ষা চালান। তারা ছাদকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে কোথাও সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, আবার কোথাও কম-এমিসিভিটি রিফ্লেক্টিভ পেইন্ট ব্যবহার করেন। এরপর বাস্তবের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহার করে কম্পিউটারে একটি মডেল তৈরি করে পরীক্ষা করা হয়। ‘ইনভেস্টিগেটিং দ্য পারফরম্যান্স অফ রিফ্লেক্টিভ ইনসুলেশন অ্যান্ড লো এমিসিভিটি পেইেন্টস ফর দ্য এনার্জি রিট্রোফিট অফ রুফ অ্যাটিক্স’ নামের এই গবেষণার কম্পিউটার সিমুলেশনেও দেখা যায় যে, এই প্রযুক্তি বাস্তব পরিস্থিতিতেও কার্যকরভাবে কাজ করে।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে ঘরে প্রবেশ করা তাপ ১০% থেকে ৫৩% পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে এই ফলাফল নির্ভর করে ব্যবহৃত উপাদানের প্রতিফলন ক্ষমতা এবং সেটি কীভাবে বসানো হয়েছে তার ওপর।
আরও পড়ুন: এসি কেন শুধু সাদা রঙেরই হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি গরম ও রোদপ্রধান এলাকায় সবচেয়ে বেশি কার্যকর। গাঢ় রঙের ছাদ হালকা রঙের ছাদের তুলনায় বেশি তাপ শোষণ করে। তাই গাঢ় রঙের ছাদে এই তাপ প্রতিরোধক স্তরের সুবিধাও বেশি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, যদি এটি সঠিকভাবে বসানো না হয়, যেমন মাঝখানে ফাঁক না থাকে বা উল্টোভাবে লাগানো হয়, তাহলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, আবহাওয়া, ছাদের ধরন এবং লাগানোর পদ্ধতির উপরই এর কার্যকারিতা পুরোপুরি নির্ভর করে।
এজেড