images

বিজ্ঞান

সাপে কাটা রোগী নিয়ে যত কুসংস্কার: প্রাণ বাঁচাতে যা জেনে রাখা জরুরি 

বিজ্ঞান ডেস্ক

১৯ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

বাংলাদেশে বর্ষাকাল মানেই যেমন প্রকৃতির সতেজ রূপ, তেমনি গ্রামীণ ও মফস্বল শহরে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার সময়। বন্যার পানি বাড়লে কিংবা বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি ঢুকলে সাপ শুকনা ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে, এমনকি মানুষের বসতঘরেও ঢুকে পড়ে। সাপের কামড় ও এর চিকিৎসা নিয়ে সমাজে দীর্ঘদিনের নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে, যা অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।

সাপ ও সাপের কামড় নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

সাপ সম্পর্কে আমাদের সমাজে প্রচলিত বেশিরভাগ ধারণাই ভিত্তিহীন। অনেকে মনে করেন, বীন বাজালে সাপ নাচে, কিন্তু বাস্তবে সাপের কান নেই। বরং সাপ মাটির কম্পন ও বিশেষ স্নায়ুতন্তুর মাধ্যমে মানুষের উপস্থিতি টের পায়। সাপের ঘ্রাণশক্তিও অত্যন্ত দুর্বল। তাই বেলি বা হাসনাহেনার গন্ধে সাপ আকৃষ্ট হয়—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এছাড়া সাপ প্রতিশোধ নেয় না এবং সঙ্গীহারাকে খুঁজতে দংশন করতে আসে না। 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সীমান্তে কেন কুমির ও সাপ ছাড়তে চায় ভারত?

সিনেমার দৃশ্য দেখে অনেকে বিশ্বাস করেন যে, সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে বিষ বের করা যায় বা মুখ দিয়ে চুষে বিষ তোলা যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, এই কাজগুলো বিষকে রক্তের সঙ্গে দ্রুত মিশিয়ে দেয় এবং রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটায়। সাপের কামড়ের পর শক্ত করে গিট্টু দিয়ে বেঁধে রাখলে হাত-পা পচনের ঝুঁকি তৈরি হয়, তাই এমনটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সাপে কাটা রোধে করণীয়

বর্ষাকালে বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা জরুরি। ঘরে বা লাকড়ির স্তূপে কাজ করার সময় দীর্ঘ লাঠি দিয়ে শব্দ করে নিতে হবে, যাতে সাপ থাকলে তা আগেই সরে যেতে পারে। ইঁদুরের গর্ত সাপের অন্যতম আশ্রয়স্থল, তাই বাড়ির আঙিনায় এমন গর্ত থাকলে তা ভরাট করে ফেলা উচিত। রাতে শোয়ার সময় বিছানা ও বালিশের নিচে সাপ আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। বাইরে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা এবং খালি পায়ে না হাঁটা সাপে কাটার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

untitled-11-1716314168

দংশনের পর প্রাথমিক পদক্ষেপ

সাপে কামড় দিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘাবড়ে না যাওয়া। ভয়ের কারণে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত স্থান সাবান পানি দিয়ে হালকা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই ব্লেড দিয়ে কাটা, চুষে বিষ বের করার চেষ্টা বা ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ ও ওঝার কাছে সময় নষ্ট করা যাবে না। শরীরে আংটি, ঘড়ি, চুড়ি বা ব্রেসলেট থাকলে দ্রুত খুলে ফেলতে হবে, কারণ সাপের বিষে আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যেতে পারে। কামড়ের স্থানটি নড়াচড়া করা যাবে না এবং রোগীকে খুব দ্রুত কাছের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

সাপ চিনে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ

বাংলাদেশে প্রচলিত সাপের প্রজাতিগুলোর মধ্যে অধিকাংশই বিষহীন। বিষধর সাপের কামড়েও যথাযথ অ্যান্টি-ভেনম প্রয়োগ করলে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটার কার্যকর চিকিৎসা ও অ্যান্টি-ভেনম লভ্য। তাই সাপে কামড় দিলে ওঝা বা কবিরাজের পেছনে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ।

এজেড