বিজ্ঞান ডেস্ক
৩০ মে ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
মানুষের মস্তিষ্ক ঠিক কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে সাম্প্রতিক এক স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণা। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি অনেকটা রিলে দৌড়ের মতো, যেখানে উদ্দীপনা বা তথ্য ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে ফ্রন্টাল কর্টেক্সে পৌঁছায় এবং সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু ইঁদুরের ওপর করা নতুন একটি পরীক্ষা বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। দেখা গেছে, মস্তিষ্কের গভীরে তথ্য পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক সংবেদনশীল এলাকা নিজেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে পারে।
ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ইউরি ভ্লাসভ এবং গবেষক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রংয়ের এই গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী 'পিএনএএস'-এ প্রকাশিত হয়েছে। তাদের গবেষণা বলছে, কোনো বাহ্যিক উদ্দীপনা বা তথ্য সম্পূর্ণভাবে পৌঁছানোর আগেই মস্তিষ্কের প্রাথমিক অনুভূতি গ্রহণের অংশ, যা 'ব্যারেল কর্টেক্স' নামে পরিচিত, নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ শুরু করে দেয়। সহজ কথায়, কোনো কিছু স্পষ্টভাবে ভাবার আগেই মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে।

গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বাস্তবতার (ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি) সাহায্যে একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে কয়েকটি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালান। ইঁদুরগুলোর মুখের মাত্র এক জোড়া গোঁফ অক্ষত রেখে বাকিগুলো কেটে ফেলা হয়, কারণ গোঁফের মাধ্যমেই তারা স্পর্শের সংবেদন লাভ করে। এই গোঁফগুলো সরাসরি মস্তিষ্কের প্রাথমিক সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্স বা ব্যারেল কর্টেক্সের সঙ্গে যুক্ত থাকে। পরীক্ষায় দেখা যায়, কোনো পূর্বপ্রশিক্ষণ ছাড়াই ইঁদুরগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দিক নির্ণয় করতে সক্ষম হচ্ছে এবং তাদের নিউরনের সংকেতগুলো আগেই জানিয়ে দিচ্ছিল তারা কোন দিকে যাবে।
এতদিনের প্রচলিত ধারণা ছিল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্য বা প্রমাণ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা হয় এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে তা মস্তিষ্কের উচ্চতর অংশ যেমন প্রিমোটর বা ফ্রন্টাল অঞ্চলে পৌঁছায়। কিন্তু নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কোনো একমুখী রিলে দৌড় নয়, বরং এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে। উদ্দীপনা পাওয়ার সাথে সাথেই মস্তিষ্কের উচ্চতর অংশ এবং নিম্নতর অংশ একে অপরের সাথে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে থাকে। অর্থাৎ, মস্তিষ্কের অনুভব করার অংশ এবং চিন্তা করার অংশ একই সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে।
আরও পড়ুন: নখ কাটার মেশিনের পেছনে ছিদ্র থাকে কেন?
তবে এই নতুন আবিষ্কার নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমতও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরীক্ষাটি যেহেতু ইঁদুরের ওপর করা হয়েছে, তাই মানুষের ক্ষেত্রেও অবিকল একই পদ্ধতিতে মস্তিষ্ক কাজ করবে কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। মানুষের জটিল মস্তিষ্ক এই প্রক্রিয়ায় কীভাবে সাড়া দেয়, তা নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এজেড