বিজ্ঞান ডেস্ক
১০ মে ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিরল ও স্মরণীয় দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। আগামী বছরের ২ আগস্ট দেখা যাবে এই শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। সাধারণত এই ধরনের গ্রহণ কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও, আসন্ন এই বিশেষ গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, ১৯৯১ থেকে ২১৯৪ সালের মধ্যে এটিই হবে দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
মহাজাগতিক এই ঘটনার নেপথ্যে
সূর্যগ্রহণ মূলত একটি স্বাভাবিক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া। যখন চাঁদ তার কক্ষপথে আবর্তনের সময় পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়া সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে দিনের আকাশ সাময়িকভাবে অন্ধকারে ঢেকে যায়। মূলত অমাবস্যার দিনেই এই ঘটনা ঘটে। সূর্যগ্রহণ সাধারণত তিন ধরনের হয় পূর্ণগ্রাস, বলয়গ্রাস এবং আংশিক সূর্যগ্রহণ।

দেখার সেরা স্থান যেখানে
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘতম গ্রহণের পথ শুরু হবে মরক্কো ও দক্ষিণ স্পেন থেকে। এরপর এটি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর এবং সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। তবে গ্রহণের পূর্ণ মহিমা এবং সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যাবে মিশরের লাক্সর এবং আসওয়ান অঞ্চলে। প্রাচীন স্থাপত্য ও মন্দিরের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চলে আকাশের অন্ধকার হবে সবথেকে দীর্ঘ ও গভীর।
পৃথিবীর বাইরেও কি গ্রহণ হয়?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সূর্যগ্রহণ কি শুধু পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞানীদের মতে, এটি গ্রহ ও উপগ্রহের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল একটি প্রক্রিয়া। ফলে পৃথিবী ছাড়াও অন্য গ্রহেও এটি সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর মঙ্গল গ্রহ এবং চাঁদেও সূর্যগ্রহণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য কিছু দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ
এই শতাব্দীতে আরও বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী সূর্যগ্রহণের তালিকা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা-
৩০ এপ্রিল ২০৬০: ৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড।
২৪ আগস্ট ২০৬৩: ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড।
১১ মে ২০৮১: ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
৩ সেপ্টেম্বর ২০৮১: ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
২২ মে ২০৯৬: ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড।
আরও পড়ুন: বিরল সূর্যগ্রহণ: ৬ মিনিট অন্ধকারে ডুবে যাবে পৃথিবী!
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় কোনোভাবেই খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। সূর্যের তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি চোখের রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই নিরাপদ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সৌর চশমা (Solar Filter Glasses) বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা জরুরি।
এজেড