images

বিজ্ঞান

ঢাকা দেখছে গ্যাগারিনকে!

তায়েব মিল্লাত হোসেন

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

দুনিয়ার প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন। তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের এই নভোচারী ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন। যা বিজ্ঞানের অগ্রগতির অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত। মহাকাশচারী গ্যাগারিনই প্রথম আসলে দুনিয়ার বাইরে গিয়ে দেখে এসেছেন পৃথিবীকে। এ নিয়ে পরে তিনি লিখেছিলেন বই। যার নাম: ‘পৃথিবী দেখছি’।

মহাবিশ্বজয়ী নভোচারী ইউরি গ্যাগারিনকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে তার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার দিন ১২ এপ্রিল রোববার জাদুঘরের এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাস, রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশ এবং ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস। 

136f2ff7-cd88-48c0-8c13-8de4fab92513

যেখানে উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয়। তার ভাষ্যমতে, মহাকাশ অনুসন্ধান একটি সেতুবন্ধন। যা ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। গ্যাগারিনের আবক্ষ মূর্তি মস্কো ও ঢাকার বন্ধুত্বের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকাস্থ রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। তিনি বলেন, গ্যাগারিনের মহাকাশযাত্রা ছিল সমগ্র মানবজাতির অর্জন। তাই তার কৃতিত্ব পৃথিবীর সবার জন্য গৌরবের বিষয়।

তিনি আরো বলেন, মহাকাশ গবেষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রাশিয়া সহযোগিতা অব্যাহত আছে। আগামী দিনে কোনো বাংলাদেশি মহাকাশ গমন করবেন, সেই আশার কথা বলেন এই কূটনীতিক।

ca8b28b3-14ff-41bf-85f8-a17fe52c055a

বিজ্ঞান জাদুঘরে গ্যাগারিনের আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের পৃষ্ঠপোষক রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশ-এর সভাপতি সাত্তার মিয়া। তিনি বলেন, এই স্মারক বিজ্ঞান ও শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের প্রতীক। গ্যাগারিনকে জানার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ মহাকাশ নিয়ে আগ্রহী হবে, এটা মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মুনিরা সুলতানা ও বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মশহুরুল আমিন। ছিলেন রাশিয়ায় জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য রুশ সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এ.  লাহেরি।

e4a4516f-6c37-457b-a5cc-7173f3bb5dd0

গ্যাগারিনের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের পর রাশিয়ান দূতাবাস স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিশুরা বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার পাশাপাশি, ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি ও রুশ মহাকাশচারীদের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ‘ত্রাভা ই দুমা’ পরিবেশন করে। আরো উপস্থাপিত হয় রাশিয়ান ও বাংলাদেশি শিশুদের আঁকা মহাকাশ বিষয়ক ছবি। অংশগ্রহণকারী সবাইকে দেওয়া হয় ‘ফরএভারফার্স্ট’ টি-শার্ট ও স্মারক। অনুষ্ঠানে আরো ছিল ত্সিওলকভস্কি আন্তর্জাতিক মহাকাশ চলচ্চিত্র উৎসবের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

এজেড