বিজ্ঞান ডেস্ক
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রংয়ের সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর কেটে গেছে অর্ধশতাব্দী। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে নাসা পুনরায় মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষে 'আর্টেমিস' কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী চাঁদকে প্রদক্ষিণ করলেও এখনই এর পৃষ্ঠে অবতরণ করছেন না।
কেন এই অপেক্ষা?
মূলত প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী মিশনের প্রস্তুতির জন্যই এই বিলম্ব। আর্টেমিস-২ মিশনের মূল লক্ষ্য হলো চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের আগে মহাকাশযান 'ওরিয়ন'-এর কার্যক্ষমতা এবং নভোচারীদের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা করা। চাঁদে মানুষের সরাসরি পদার্পণের জন্য আমাদের অন্তত আর্টেমিস-৪ মিশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যা ২০২৮ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য
বাজেট ও রাজনীতি: অ্যাপোলো যুগে নাসা ফেডারেল বাজেটের ৫ শতাংশ পেলেও বর্তমানে তা মাত্র ০.৩৫ শতাংশ। ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি: চন্দ্রপৃষ্ঠে নামার জন্য উপযুক্ত ল্যান্ডার এবং নতুন প্রজন্মের স্পেসস্যুট তৈরির কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন।
চাঁদের অন্ধকার অংশ: আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী বা 'অন্ধকার অংশ' (Far Side) সশরীরে দেখার সুযোগ পাবেন, যা বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: আর্টেমিস ২: চাঁদে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ভবিষ্যতের ভাবনা
নাসার লক্ষ্য এবার কেবল চাঁদে যাওয়া নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি এবং মহাকাশ স্টেশন তৈরি করা। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানববাহী অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
এজেড