বিজ্ঞান ডেস্ক
২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
এই গরমে ঘরে ঘরে এখন দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই চলছে সিলিং ফ্যান। অনেকে মনে করেন, এসি বা এসির তুলনায় ফ্যানে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম। কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের বড় অংকের পেছনে একটানা চলতে থাকা এই ফ্যানও যে দায়ী, তা আমরা অনেকেই খেয়াল করি না।
আপনার ঘরে চলা সাধারণ একটি সিলিং ফ্যান ঘণ্টায় এবং মাসে ঠিক কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ করে, তার বিস্তারিত হিসাব নিচে তুলে ধরা হলো-
১ ঘণ্টায় কত ওয়াট খরচ হয়?
বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ সাধারণ সিলিং ফ্যান ৭০ থেকে ১০০ ওয়াটের হয়ে থাকে। আমরা যদি একটি আদর্শ ৭০ ওয়াটের ফ্যান ধরি, তবে এটি ১ ঘণ্টা চললে ৭০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করবে। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ০.০৭ ইউনিট (kWh)। অর্থাৎ, আপনার ফ্যানটি যদি একটানা ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা চলে, তবে সেটি ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে।
১০ ঘণ্টায় কত ইউনিট বিল আসে?
একজন মানুষ গড়ে যদি দিনে ১০ ঘণ্টা ফ্যান চালান, তবে মোট বিদ্যুৎ খরচ হবে ৭০০ ওয়াট । ইউনিটের হিসাবে এটি দাঁড়ায় ০.৭ ইউনিট। বর্তমান সময়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট ৭.৫০ টাকা (স্ল্যাব অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে) ধরে হিসাব করলে প্রতিদিনের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫.২৫ টাকা।

৩০ দিনের মাসিক খরচের হিসাব
একটি ফ্যান প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা চললে মাসে (৩০ দিনে) মোট বিদ্যুৎ খরচ হয় ২১ ইউনিট। প্রতি ইউনিটের দাম ৭.৫০ টাকা হলে, মাস শেষে একটি ফ্যান বাবদ আপনার বিদ্যুৎ বিল আসবে ১৫৭.৫ টাকা। তবে ঘরে যদি একাধিক ফ্যান থাকে এবং সেগুলো দিনে ১৫-২০ ঘণ্টা চলে, তবে কেবল ফ্যান বাবদই মাসে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বিল আসতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্যানে ‘খট-খট’ শব্দ? মেকানিক ডাকার আগে ২ মিনিটে নিজেই সারিয়ে নিন
বিএলডিসি ফ্যান কি সত্যিই সাশ্রয়ী?
বর্তমানে বাজারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বিএলডিসি (BLDC) ফ্যান এসেছে, যা মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। অর্থাৎ সাধারণ ফ্যানের তুলনায় এগুলো অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। যেখানে সাধারণ ফ্যানের মাসিক বিল আসে ১৫৮ টাকা, সেখানে বিএলডিসি ফ্যানের বিল আসবে মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। যদিও এই ফ্যানগুলোর দাম সাধারণ ফ্যানের তুলনায় কিছুটা বেশি (২,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা), তবে এক বছরের বিদ্যুৎ সাশ্রয় দিয়েই এই বাড়তি দাম উশুল হয়ে যায়।

বিশেষ পরামর্শ: ফ্যানের রেগুলেটর পুরনো আমলের বড় (ইলেকট্রোম্যাগনেটিক) হলে সেটি পরিবর্তন করে আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করুন। এতে ফ্যানের গতি কমালে বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়। এছাড়া ফ্যানের বিয়ারিংয়ে জ্যাম থাকলে তা মেরামত করুন, কারণ জ্যাম বিয়ারিং ফ্যান ঘোরাতে বেশি বিদ্যুৎ টানে।
এজেড